অ্যালবার্টা কানাডার সঙ্গেই থাকুক—‘ফরেভার ক্যানাডিয়ান’ সমর্থকদের এই দাবির পক্ষে উল্লাস। ছবি : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
আলবার্টায় ঐতিহাসিক গণভোট

কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে রায় দিল অধিকাংশ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কানাডার রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করল আলবার্টা প্রদেশের সাম্প্রতিক গণভোট। প্রদেশটির ভবিষ্যৎ এবং কানাডা ফেডারেশনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কেমন হবে—তা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে শেষ পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের রায় জানিয়েছেন আলবার্টাবাসী। প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, উগ্র বিচ্ছিন্নতাবাদের পথ পরিহার করে সিংহভাগ মানুষ কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে তাদের স্পষ্ট এবং জোরালো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

গণভোটের রায়: সংখ্যা কী বলছে

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, আলবার্টার ভোটারদের একটি বিশাল অংশ দেশের অখণ্ডতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
• ফেডারেশনের পক্ষে রায়: প্রায় ৭৬.৪% থেকে ৭৭% ভোটার কানাডার অংশ হিসেবেই আলবার্টার ভবিষ্যৎ দেখতে চান বলে রায় দিয়েছেন।

• বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রায়: অন্যদিকে, প্রায় ২৩% থেকে ২৩.৬% ভোটার প্রদেশটির স্বাধীনতা বা ফেডারেশন থেকে আলাদা হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
যদিও এই ফলাফল এখনও প্রাথমিক এবং অনানুষ্ঠানিক, তবে দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধান এতই বেশি যে চূড়ান্ত ফলাফলে মূল ধারার কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী ২৯ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই গণভোটের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

কী ছিল এই গণভোটের মূল প্রশ্ন

অনেকেই মনে করতে পারেন এটি হয়তো সরাসরি কানাডা থেকে আলবার্টার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের ভোট ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এবারের গণভোটের মূল প্রশ্নটি ছিল মূলত একটি আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা নিয়ে।

Supporters of a non-binding referendum on Alberta sovereignty gather outside the provincial legislature for an independence rally two days before polls close, in Edmonton, Alberta, Canada, on October 17, 2026.

ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—ভবিষ্যতে কানাডা থেকে আলবার্টার সম্পূর্ণ স্বাধীনতার বিষয়ে কোনো 'বাধ্যতামূলক বা চূড়ান্ত গণভোট' আয়োজন করার জন্য প্রাদেশিক সরকার আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না। ফলে, এটি ছিল মূলত বিচ্ছিন্নতার দিকে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনগণের মনোভাব বোঝার একটি পরীক্ষা, যেখানে অধিকাংশ মানুষই 'না' সূচক রায় দিয়েছেন।

কেন এই গণভোট এবং এর পেছনে মানুষের আবেগ

আলবার্টার এই গণভোট রাতারাতি কোনো আবেগের ফসল ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

• অর্থনৈতিক অসন্তোষ: আলবার্টা মূলত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ একটি প্রদেশ। বছরের পর বছর ধরে প্রদেশটির একটি বড় অংশের মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল যে, তাদের উৎপাদিত সম্পদ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার (ওটাওয়া) প্রচুর রাজস্ব পেলেও আলবার্টার স্বার্থ সুরক্ষায় বা তাদের অর্থনৈতিক সংকটে ফেডারেল সরকার সবসময় উদাসীন থেকেছে।

• রাজনৈতিক দূরত্ব: ওটাওয়ার মূল ধারার দলগুলোর পরিবেশ নীতি এবং কার্বন ট্যাক্সের মতো বিষয়গুলো আলবার্টার জ্বালানি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এই 'আঞ্চলিক অবহেলা' বা 'ওয়েস্টার্ন অ্যালিয়েনেশন' থেকেই মূলত বিচ্ছিন্নতাবাদী সুর চড়া হতে শুরু করে।
তবে ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকলেও আলবার্টার সিংহভাগ মানুষ মনে করেন যে, কানাডার ভেতরে থেকেই আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, আলাদা হয়ে নয়।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর প্রভাব কী

এই গণভোটের ফলাফল আলবার্টার প্রাদেশিক রাজনীতি এবং সামগ্রিকভাবে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে:

1. বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির ধাক্কা: যারা আলবার্টাকে কানাডা থেকে আলাদা করার এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতি করছিলেন, এই ফলাফল তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। জনগণ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিক সংস্কার চান, কিন্তু দেশের মানচিত্র ভাগ করতে চান না।

2. কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বার্তা: যদিও বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব বিপুল ভোটে হেরে গেছে, তবুও ২৩ শতাংশের বেশি মানুষের আলাদা হওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়াটা ওটাওয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা। আলবার্টার মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্রীয় সরকার যদি গুরুত্ব না দেয়, তবে এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

3. ঐক্যের নতুন সুযোগ: এই রায়কে কানাডার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ফেডারেশনকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে। আলবার্টার মানুষের মনের ক্ষোভ দূর করতে এখন ওটাওয়া এবং এডমন্টন (আলবার্টার রাজধানী) কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, সেটিই দেখার বিষয়।

ফেডারেশনের পক্ষে আসা এই বিপুল রায় প্রমাণ করে যে, দিনশেষে আলবার্টাবাসী নিজেদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে কানাডিয়ান মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যকেই বেছে নিয়েছেন। তবে এই রায়ের পর কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল, যাতে আলবার্টার সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অবহেলার অনুভূতিগুলো দ্রুত দূর করা সম্ভব হয়।

সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন, আদালতের রায় ১১ বছর পর

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী নিজের মেয়েক...

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ, আতংকে এলাকায় মাইকিং

শরণখোলার লোকালয়ে সোমবার সকালে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে...

খাগড়াছড়িতে অস্ত্র, মটরসাইকেল, টাকাসহ ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ডাকাতকে আটক...

তিনশ' বছরের ঐতিহ্য বহন করছে পাঁচগাও ‘লাল দুর্গা’

সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ, উল্লাস আর ভক্তির বর্ণ...

দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ভিডিও নিয়ে মিথ্যা প্রচার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যক...

পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি-বার্সেলোনা মহারণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি

ফরাসি রাজধানীর রাজপথে যখন নাগরিক বিক্ষোভ, তীব্র সহিংসতা এবং ভাঙচুরের দাবানল ব...

কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে রায় দিল অধিকাংশ মানুষ

কানাডার রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করল আলবার্টা প্রদে...

ডিবির দুই কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হলো যেসব অভিযোগে

সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাদক বিরোধী বিশেষ অ...

দিলীপ আগরওয়ালার রিমান্ড চায় সিআইডি

চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অব...

বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় সাবেক সেনাপ্রধান প্রাবোও সুবিয়ান্তোর দুই বছর প...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা