রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে আজ শনিবার ৩ অক্টোবর মাছ, মাংস ও ডিমের দামে বড় কোনো হেরফের লক্ষ্য করা যায়নি। আগের চড়া দরেই বিক্রি হচ্ছে এসব আমিষ জাতীয় খাদ্যপণ্য। তবে বাজারে আগাম শীতের সবজি শিম আসার পর থেকেই এর দাম বেশ চড়া রয়েছে, যা হাত ছোঁয়ালেই কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে তুলনামূলক অনেক কম দামে, মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে মিলছে পাকা ও কাঁচা পেঁপে।
সবজির বাজারে আগুন, স্বস্তি শুধু পেঁপেতে : আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির বাজারে ক্রেতাদের বেশ ভালোই পকেট কাটছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজিগুলো কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে শসায়; সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও একটু ভালো মানের দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ঝাল বাড়াতে রান্নায় ব্যবহৃত কাঁচা মরিচ কিনতে ক্রেতাদের ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি খরচ করতে হচ্ছে। তবে এই চড়া বাজারের মাঝেও ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁপে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে সাধারণ মানুষের মনে।
মাংস ও ডিমের বাজারে অপরিবর্তিত দর : মাছ-সবজির বাজার চড়া থাকলেও মাংস ও ডিমের দামে এ সপ্তাহে নতুন কোনো উত্তাপ ছড়ায়নি। আগের মতোই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে। তবে ডিমের বাজারে স্বস্তি ফেরার নামই নেই; আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে বয়লার মুরগির ডিম। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৫৫ টাকা, আর হালি হিসেবে দাম পড়ছ ৫৫ টাকা।
মাছের বাজারেও নেই বড় কোনো পরিবর্তন : মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেল, মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম আগের মতোই উর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি ও ভালো মানের রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজিতে। একটু বড় আকৃতির রুই মাছ কিনতে গেলে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা লাগছে। অন্যদিকে মাছের ধরন ও আকারভেদে পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি কই, শোল বা বাইমের মতো দেশীয় মাছগুলোর দাম বেশ চড়া, যা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, মাছের আকার, ওজন এবং তা তাজা নাকি মরা—তার ওপর ভিত্তি করে বাজারভেদে দামে সামান্য তারতম্য হতে পারে।
সান নিউজ/রাজীব