মতামত

মৌসুমি জ্বর নাকি অন্য কিছু

ডা. পলাশ বসু , চিকিৎসক ও শিক্ষক: বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষই জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ হয়তো বা জটিলতায় পড়ছেন। তবে সে সংখ্যা খুবই কম।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রেরও ভুল আছে

বর্তমানে জ্বরের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটা ভাইরাসজনিত কারণেই হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত এ সময়ে এমন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে, একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে এটা কোভিড বা ডেঙ্গুজ্বর কি না। যদিও আমরা এখন কোভিড পরীক্ষা করাতে তেমন উৎসাহী না। ফলে এটার বর্তমান অবস্থা কিছুটা ধোঁয়াশাই বৈকি। অন্যদিকে ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। ফলে জ্বর হলেই সাবধান হতে হবে। সেই সাথে যাতে জ্বর না হয় সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।

ভাইরাস জ্বরের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, ৩-৪ দিন খুব তাপমাত্রা থাকলেও তারপর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায়। এ সময় প্রয়োজন হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পানি পান এবং রেস্ট। তবে যদি খুব বমি হয়, রোগী খেতে না পারেন , চামড়ার নিচে রক্ত জমে, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে বা অজ্ঞান হয়ে যান তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে। দয়া করে নিজে নিজে চিকিৎসা করাবেন না

২০২০ সালের মার্চ থেকে এ অবধি কোভিড নিয়ে বহু কথা বলা হয়েছে। আশা করি কোভিড সম্পর্কে সবাই এখন কম বেশি ওয়াকিবহাল। বিশ্বের সফলতম দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম যেখানে অধিকাংশ মানুষ কোভিড ভ্যাকসিন পেয়েছেন। অনেকে বুস্টারও নিয়েছেন। ফলে কোভিডের আগ্রাসী ভাব অনেকটাই কমে এসেছে। তাতে যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে, মানুষের মধ্যে একটা গাছাড়া ভাব চলে এসেছে। ফলে অনেকেই আর স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

আরও পড়ুন: সেই কলেজছাত্র গ্রেফতার

মাস্ক পরা বাদ দিয়েছেন। হাত স্যানিটাইজ করা তো পরের কথা। এর ফলে কোভিড কিন্তু ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফলে আপনি যখন বাইরে বের হচ্ছেন, মানুষের সাথে মিশছেন তখন দয়া করে মাস্ক পরুন। সবাই যদি আমরা সচেতন থাকি তাহলে কিন্তু কোভিডের প্রকোপ কমবেই। ফলে জীবনযাত্রা সহজ, স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকবে। না হলে হয়তো নানাবিধ বিধিনিষেধের যাঁতাকলে আবারও পড়া লাগতে পারে।

এটা গেল কোভিড নিয়ে সতর্কতার পুনরাবৃত্তি। এবার আসুন ডেঙ্গু নিয়ে একটু সতর্ক হই। আমরা জানি, ডেঙ্গু মশার কামড়ের ফলে হয়। এটাও ভাইরাসজনিত জ্বরই। এখন ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে। বৃষ্টি হলেই প্রকোপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সাধারণ ডেঙ্গুতে ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই। তবে, ডেঙ্গু যদি রক্তক্ষরণজনিত হয় বা শকের অবস্থা তৈরি করে তাহলে তাতে মৃত্যুও হতে পারে। ফলে এখানেও প্রয়োজন সতর্কতা।

এজন্য বাসাবাড়ি মশামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘরের ভেতরে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্যই ঘুমানোর আগে সেটা দিনে বা রাতে যখনই হোক না কেন দয়া করে মশারি টানাতে ভুলবেন না। মশারি টানানো নিয়ে কোনো হেলাফেলা কাম্য নয়। মশারি বাদে যত ধরনের মশা তাড়ানোর ওষুধ, স্প্রেই ব্যবহার করেন না কেন তাতে মশা পরিপূর্ণ নির্মূল হয় না। ফলে মশারি টাঙাতেই হবে।

আর জ্বর-তা যাই হোক না কেন-প্রথম কথাই হচ্ছে, বাসায় থাকুন। রেস্ট নিন। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম। শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। জ্বর সেটাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে ঘরে থাকুন। পানি এবং তরল খাবার খান বেশি করে। জ্বর কমানোর জন্য হাল্কা কুসুম গরম পানিতে গা মুছে নিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে গা মুছবেন না। প্যারাসিটামল ৬ ঘণ্টা বা ৮ ঘণ্টা পরপর খেতে পারেন। তবে জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করবেন না। কারণ ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক কোনোই কাজ করে না। এতে উল্টো অবস্থা খারাপও হতে পারে।

আরও পড়ুন: আমরা হলাম রেফারি

ভাইরাস জ্বরের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, ৩-৪ দিন খুব তাপমাত্রা থাকলেও তারপর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায়। সাতদিনের মধ্যে একদম সেরে যায়। এ সময়ে প্রয়োজন হচ্ছে- পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পানি পান এবং রেস্ট। তবে, যদি খুব বমি হয়, রোগী খেতে না পারেন , চামড়ার নিচে রক্ত জমে, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে বা অজ্ঞান হয়ে যান তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে। দয়া করে নিজে নিজে চিকিৎসা করাবেন না। ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়াবেন না। তাতে অহেতুক সময় নষ্ট হবে। রোগী খারাপ হয়ে যতে পারে।

আসুন আতঙ্ক বা উদাসীনতা নয় বরং সচেতন থাকি। তাহলেই আমরা কোভিড বা ডেঙ্গু যাই হোক না কেন তা থেকে নিজে যেমন মুক্ত থাকতে পারব তেমনিভাবে পরিবারের অন্যদের মুক্ত রাখতে পারব। আপনার, আমার সচেতনতাই পারে কোভিড কিংবা ডেঙ্গু রুখে দিতে। আসুন সে লক্ষ্যে সবাই সচেষ্ট হই।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ
এনাম মেডিকেল কলেজ, সাভার।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা