আন্তর্জাতিক

টানা তিন মাস মহাকাশে থাকবে তিন চীনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবারও মহাকাশে তিন নভোচারীকে পাঠিয়েছে চীন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাদের টানা তিন মাসের জন্য পঠিয়েছে দেশটি। নভোচারীরা হলেন- নি হাইসেং (৫৬), লিই বোমিং (৫৪) এবং ট্যাং হংবো (৪৫)।

মিশনের নেতা নি হাইসেং চীনের সবচেয়ে অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে দুবার তিনি মহাকাশে গেছেন। ২০১৩ সালে তিয়াংগং-১ মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি ১৫ দিন ছিলেন। ঐ মহাকাশ সেশনটি এখন অকেজো এবং পরিত্যক্ত। তার দুই সহযোগী বোমিং এবং হংবো একসময় চীনা বিমান বাহিনীতে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) গোবি মরুভূমির একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরে তৈরি নূতন মহাকাশ স্টেশনে রওনা হন। সাত ঘণ্টা পর তাদের বহনকারী শেনজু-১২ নামের ক্যাপসুল বা মহাকাশ যানটি মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছে।

স্টেশনের ভেতর ১৭ মিটার লম্বা আর চার মিটার চওড়া সিলিন্ডার আকৃতির কক্ষে- যেটির নাম দেওয়া হয়েছে তিয়ানে। এই তিন নভোচারী থাকবেন, মহাকাশে হাঁটবেন, দেখবেন এবং গবেষণা করবেন।

রওনা হওয়ার সাত ঘণ্টা পর তাদের পৌঁছুনোর খবর আসার পর অভিযান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষায় থাকা চীনা বিজ্ঞানীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

মহাকাশে নতুন একটি স্টেশন তৈরি এবং সেখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষ পাঠানোর ঘটনা মহাকাশে চীনের উত্তরোত্তর ক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি নিদর্শন।

গত ছয়মাসে মহাকাশে অসামান্য সব বৈজ্ঞানিক সাফল্য দেখিয়েছে চীন। গত বছর ডিসেম্বরে গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম চাঁদ থেকে মাটি ও পাথরের নমুনা নিয়ে এসেছে চীনের পাঠানো একটি রোবট-চালিত মহাকাশযান। মঙ্গলগ্রহে ছয়-চাকার একটি রোবট নামাতে পেরেছে চীন যেটি থেকে নিয়মিত নানা ছবি আসছে। দুটো কাজই ছিল খুবই জটিল।

সেনজাও-১২ নভোযানের কম্যান্ডার নি হাইসেং এবং তার দুই সহযোগীর প্রধান কাজ হবে মহাকাশ কেন্দ্রে তৈরি সাড়ে বাইশ টন ওজনের তিয়ানে মডিউলটিকে সচল করা।

নভোযানে ওঠার আগে নি বলেন, সেখানে গিয়ে আমাদের অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে মহাকাশে আমাদের ঘর বাঁধতে হবে। নতুন কিছু প্রযুক্তিকে সচল করতে হবে। এগুলো কঠিন কাজ এবং সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। তবে এই মিশনের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে আমরা তিনজনই যথেষ্ট

সিলিন্ডার আকৃতির তিয়ানে মডিউলটি মহাকাশে পাঠানো হয় এপ্রিলে। চীনের নতুন এই মহাকাশ স্টেশনে প্রথম এবং মূল স্থাপনাটি হবে এই মডিউল। পরে আরও দুটি মডিউল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। ফলে এক সময় এটি ৭০ টন ওজনের একটি বড় মহাকাশ স্টেশনে রূপ নেবে এবং কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে।

এখানে থাকার জায়গা ছাড়াও, বিজ্ঞান ল্যাব এবং মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক হাবল-ক্লাস টেলিস্কোপ থাকবে। আগামী দু'বছর ধরে ধাপে ধাপে নতুন নতুন উপকরণ মহাকাশ স্টেশনটিতে যোগ করা হবে। উপকরণের সাথে যাবে নভোচারীদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ। বদল হতে থাকবে নভোচারী, একদল যাবে, একদল ফিরে আসবে।

আগামী তিনমাসে যে জ্বালানি, খাবার এবং অন্যান্য উপকরণ এই তিন নভোচারীর লাগবে তা গত মাসে রোবট চালিত একটি মহাকাশযানে করে তিয়ানেতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে মহাকাশে হাঁটা চলার জন্য দুটো স্পেস-স্যুট রয়েছে। এই তিন নভোচারী সেখানে গিয়ে থিতু হওয়ার পর সেসব মালামাল, রসদ বের করবেন।

মহাকাশ নিয়ে তাদের উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন কোনো রাখ-ঢাক করেনি। বহু টাকা তারা মহাকাশ কর্মসূচিতে ঢেলে চলেছে। সাফল্যও আসছে দ্রুত। মাত্র ১৭ বছর আগে চীন প্রথম মহাকাশে নভোচারী পাঠায়। তারপর এখন পর্যন্ত ১৪ জন চীনা নভোচারী মহাকাশে গেছেন। এই সংখ্যা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকার পরপরই।

আমেরিকার আপত্তিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ প্রকল্পে (আইএসএস) জায়গা না পেয়ে চীন নিজেই এককভাবে একটি মহাকাশ স্টেশন বানাতে উদ্যোগী হয়। রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান এবং ক্যানাডার সাথে যৌথ ঐ প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ কোনোভাবেই মানেনি যুক্তরাষ্ট্র। তাতে আখেরে লাভই হয়েছে চীনের। একা একাই মহাকাশ প্রযুক্তি অসামান্য সাফল্য অর্জন করে ফেলেছে তারা।

চীন অবশ্য এখন বলছে, তদের নতুন এই মহাকাশ কেন্দ্রে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহনের সুযোগ থাকবে। তাদের মহাকাশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অন্যরাও অংশীদার হতে পারবে। যেমন, স্টেশনের প্রথম তিন বাসিন্দা ক্যান্সার নিয়ে যে গবেষণা করবেন তার সাথে নরওয়ে সম্পৃক্ত থাকবে। এছাড়া স্টেশনের বাইরে যে টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের গভীর থেকে নিঃসরিত অতি-বেগুনি রশ্মি পর্যবেক্ষণ করা হবে সেটি তৈরি হয়েছে ভারতে।

পরে অন্য দেশের নাগরিকরাও মহাকাশ স্টেশনে যেতে পারবেন বলে চীন প্রকাশ্যে বলেছে। মহাকাশ প্রযুক্তিতে শুরুর দিকে যে দেশটি চীনকে সহযোগিতা করেছে, সেই রাশিয়া বলছে ভবিষ্যতে তারা তাদের নভোচারীদের চীনা মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠাবে।

বুধবার মিশন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে চীনা মহাকাশযান প্রকল্পের জি কিমিং বলেন, আমাদের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি মহাকাশ কেন্দ্রটির নির্মাণ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চীনা নভোচারীদের সাথে বিদেশী নভোচারীও সেখানে উড়ে যাবে।

রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মহাকাশ স্টেশনটি পুরনো হয়ে গেছে। বছর তিনেক পরে এটির ঠিকমত কাজ করবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় সেখানে চীনের নতুন এই স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের দাবি করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রটির মেয়াদকাল হবে কমপক্ষে ১০ বছর। ধীরে ধীরে এটির আয়তন বাড়ানো হবে যাতে এক সঙ্গে অনেক নভোচারী সেখানে থাকতে পারেন।

মহাকাশ বিজ্ঞান প্রকল্পে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

সান নিউজ/এমএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা