দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের একটি গ্রামে নতুন করে হামলা চালিয়েছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটেলার)। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে ঘটে চলা সহিংসতারই একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, আদালতের রায়ের পর প্রায় দুই মাস ধরে বাস্তুচ্যুত থাকা তুবাসি পরিবারের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার তাদের নিজ বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উগ্রপন্থীরা। এতে বাড়ি দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও ইসরায়েলি বাহিনী উল্টো বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। এমনকি বন্দুকের মুখে ওই ফিলিস্তিনি পরিবারটিকে আবারও বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক মাহমুদ তুবাসি জানান, আদালতের আদেশে ফিরে এসে তারা দেখতে পান যে সেটেলাররা আগে থেকেই বাড়িটি দখল করে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং রাতে সেখানে আগুন দিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য করে দিয়েছে। গত জুলাই মাসেও লাগাতার হয়রানি ও সহিংসতার মুখে জালুদ গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এই পরিবারটি।
এদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর এই সহিংসতা শুধু একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না। মঙ্গলবার নাবলুসের দক্ষিণে কারিয়ুত গ্রামে এক বৃদ্ধার বাড়িতে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায় সেটেলাররা। এ সময় ওই নারীর হাত ও মাথায় জখম হয়। অন্যদিকে রামাল্লাহর আল-মুঘাইয়্যির গ্রামেও বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং এক তরুণকে আটক করে নিয়ে যায় ইসরায়েলি সেনারা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের হামলা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার এই বর্বরতা বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
সান নিউজ/রাজীব