ছবি ; সংগৃহিত
ফিচার

বেড়েছে উৎপাদন কিন্তু সংকটে দেশের চা-শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১৭০ বছর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চা-শিল্প বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরিসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই শিল্প এখন আর্থিক সংকটে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে খরচ। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা। বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ১২ পয়সা। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ২০০২ সালের পর চা রপ্তানি কমেছে ৭৯ শতাংশ।

চা-বাগান মালিকদের দাবি, চা-শিল্পকে কৃষিখাতের পরিবর্তে শিল্পখাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। অনেক বাগান আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন ঋণও পাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের মজুরি এখনও অপর্যাপ্ত।

চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও অধিকাংশ বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারলে নিলামে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজড়া বলেন, বর্তমানে চা উৎপাদনের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। উৎপাদন বাড়ছে, তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে ৫৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চা-বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ৬ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ঋণ পুনর্গঠন, ভ্যাট কমানো, চা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

চা-শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার ‘টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চা পুন:রোপণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জাতীয় চা ব্র্যান্ড তৈরি, জিআই স্বীকৃতি অর্জন এবং পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানিসংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা না গেলে চা-শিল্পের সংকট কাটবে না বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে টাস্কফোর্সের ৫৯টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের চা-শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।

সান নিউজ/ হুমায়রা

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাঙ্গাবালীর কৃত্রিম খালে লবণাক্ত পানি প্রবেশে কৃষকদের হাহাকার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জুগির হাওলা গ্রামে এ...

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তৎপর রয়েছে পাকিস্তান : শেহবাজ শরীফ

শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্...

বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদার (৮৫...

অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে আটক ৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে য...

পদ্মায় বাল্কহেডে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে টাকা ও মোবাইল লুট

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল ট্রলার ঘাটসং...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা