বিনোদন

সেদিন ভেঙে গিয়েছিল হেমা মালিনীর বিয়ে

বিনোদন ডেস্ক

পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে হিন্দি সিনেমার দর্শকের মনে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছেন হেমা মালিনী। তবে এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও কম রোমাঞ্চকর নয়। বিশেষ করে তাঁর প্রেম, বিয়ে তো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
বলিউডের সোনালি যুগে রুপালি পর্দার প্রেম বারবার ছড়িয়ে পড়েছে বাস্তব জীবনে। এসব প্রেমকাহিনির তালিকায় সবার আগে থাকে হেমা মালিনী আর ধর্মেন্দ্রর নাম।
রোমান্টিক জুটি মানেই ছিল হিন্দি সিনেমার সফলতার নিশ্চয়তা। অমিতাভ-রেখা থেকে রেখা-জিতেন্দ্র—তাঁদের পর্দার রসায়ন ভক্তদের মাতিয়ে রেখেছিল। কিন্তু যখন বিষয়টি বাস্তব বিয়েতে গড়াত, তখন তা যেন সিনেমাকেও ছাড়িয়ে যেত নাটকীয়তায়। হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর বিয়ে এমনই এক কাহিনি—যেখানে ছিল প্রেম, প্রত্যাখ্যান, বিচ্ছেদ কী ছিল না!

ধর্মেন্দ্রই নন, আরও অন্তত তিনজন বড় তারকা হেমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অভিনেতা সঞ্জীব কুমার একবার নয়, দু-দুবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু হেমা রাজি হননি। পরে সঞ্জীব কুমারের পক্ষ হয়ে জিতেন্দ্র প্রস্তাব পৌঁছে দেন হেমার কাছে।


সুযোগ বুঝে জিতেন্দ্র নিজেই প্রস্তাব দেন তাঁকে। এবার হেমা না করেননি। দুই পরিবার রাজি হয়ে যায়, আর হেমার মা জয় চক্রবর্তী এই সম্পর্কে সায় ছিল।


হেমা আর জিতেন্দ্র প্রায় বিয়ের মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিরুপতি মন্দিরে আয়োজনও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নাটকীয় মোড় আসে, যখন জিতেন্দ্রর শৈশবের প্রেমিকা শোভা সিপ্পি ছুটে যান ধর্মেন্দ্রর কাছে। তিনি অনুরোধ করেন, বিয়ে যেন না হয়। শোভা ও ধর্মেন্দ্র একসঙ্গে বিশেষ বিমানে চেপে পৌঁছে যান মন্দিরে।
সেখানে গিয়ে শোভা মুখোমুখি হন জিতেন্দ্রর। জানান, ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি জিতেন্দ্রর প্রেমে। অন্যদিকে আলাদা কক্ষে ধর্মেন্দ্র প্রাণপণ অনুরোধ করেন হেমাকে, যেন তিনি এই বিয়ে না করেন। দুই পরিবারের কাছে বিষয়টি ছিল অপমানজনক, আর শেষমেশ ভেঙে যায় সেই আয়োজন।

হেমার জীবনীতে উল্লেখ আছে, জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে আটকাতে ধর্মেন্দ্র একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। একই সময়ে শোভা তাঁর দাবি জানাচ্ছিলেন, জিতেন্দ্র কেবল তাঁরই। অন্যদিকে অভিনেত্রী সুলক্ষণা পণ্ডিত পরে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনিও সঞ্জীব কুমারকে ভালোবাসতেন। প্রেম-প্রত্যাখ্যান-আকাঙ্ক্ষার এই জটিল জাল তখন বলিউডের আলোচিত অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।

সমস্যা ছিল আরেকটি—ধর্মেন্দ্র তখন বিবাহিত, স্ত্রী প্রকাশ কৌর তাঁকে ডিভোর্স দিতে রাজি নন। তাই একসঙ্গে থাকার জন্য দুজনই ধর্ম পরিবর্তন করেন। ১৯৭৯ সালে ধর্মেন্দ্র ‘দিলওয়ার খান কেওয়াল কৃষ্ণ’ নামে পরিচিত হন, আর হেমা নাম নেন ‘আয়েশা বি আর চক্রবর্তী’। ১৯৭৯ সালের ২১ আগস্ট বিয়ে সম্পন্ন হয়, মোহরানা ধার্য হয় ১ লাখ ১১ হাজার রুপি। পরে ১৯৮০ সালের ২ মে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দেন।

শুরুটা হয়েছিল এক প্রেম ত্রিভুজ দিয়ে, শেষমেশ সেটি হয়ে ওঠে বিশ্বাস, গোপনীয়তা আর সাহসের গল্প। ধর্মেন্দ্র আর হেমার প্রেম তাই রোমান্টিক সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাঙ্গাবালীর কৃত্রিম খালে লবণাক্ত পানি প্রবেশে কৃষকদের হাহাকার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জুগির হাওলা গ্রামে এ...

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তৎপর রয়েছে পাকিস্তান : শেহবাজ শরীফ

শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্...

পঞ্চগড়ে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালি...

বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদার (৮৫...

অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে আটক ৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে য...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা