দিনে ৭ -১০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি নেমে এসেছে ৫০০ টাকায়
বাণিজ্য

ফুল বেচা-কেনায় ধস, প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের সামাজিক ও সরকারি অনুষ্ঠান। এতে ধস নেমেছে ফুলের ব্যবসায়। বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। অলস সময় পার করছেন ফুল বিক্রেতারা। তাছাড়া বেশি দামে ফুল কিনতে হলেও বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। সেদিক থেকেও লোকসানে ব্যবসায়ীরা।

সব মিলিয়ে বিপাকে ফুল ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ী সরকারি প্রণোদনার দাবি করছেন। বলছেন, বিক্রি না হলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে ক্ষতি হলেও খোলা রেখেছেন। ফলে ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ।

সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট মোড় ও লাবণী মোড়ে তিনটি ফুলের দোকান সুগন্ধা, বিয়ের ফুল ও ফুলেশ্বরী। করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতিদিন এই দোকানগুলো থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হতো। এখন আর দুই হাজার

টাকারও ফুল বিক্রি নেই এসব দোকানে। শহরের মিনি মার্কেট মোড়ে রয়েছে ফুলশয্যা নামে আরেকটি ফুলের দোকান। সেখানেও নেই বেচা-বিক্রি।

নিউমার্কেট মোড়ের ফুল ব্যবসায়ী বিয়ের ফুল নামের দোকানের সত্ত্বাধিকারী পারভেজ হাসান খান বলেন, ‘ফুলের তেমন বিক্রি নেই। কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। আমরা ছোট ব্যবসায়ী। করোনায় চার লাখ টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি আগামী দুই বছরেও এই ক্ষতি পুষিতে উঠতে পারবো না। আগে দিনে সাত হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এখন দিনে ৫০০ টাকারও হয় না।’

‘দোকানে চারজন কর্মচারী রয়েছেন। তাদেরও বেতন দিতে হয়। বাড়ি থেকে টাকা এনে তাদের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার আগে একটি গোলাপ এক টাকা থেকে দেড় টাকায় কেনা পড়তো। বিক্রি হতো পাঁচ টাকায়। এখন একটি গোলাপ কিনতে হচ্ছে চার টাকা থেকে সাড়ে চার টাকায়। বিক্রি করছি আগের দামেই। একটি রজনীগন্ধা ফুল আগে কিনেছি তিন টাকা থেকে টাকায়, বিক্রি ছিল ১০ টাকা। এখন কিনতে হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকায়, বিক্রি করছি ১০ টাকায়। করোনার আগে এক হাজার গাঁদা ফুল কিনেছি ২০০ টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ৭০০ টাকায়। বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়।’

মিনি মার্কেট মোড়ের ফুলশয্যা দোকানের সত্ত্বাধিকারী মিকাইল বলেন, ‘সরকারিসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান এখন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এখন আর ফুলের তেমন বেচা-বিক্রি নেই। দোকানে আটজন কর্মচারী রয়েছে। দোকান খুললে প্রতিদিন খরচ দুই হাজার ৫০০ টাকা। তাছাড়া দোকানভাড়া রয়েছে। সব মিলিয়ে মাসিক খরচ ৬০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা। গত সাত মাসে পাঁচ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। ফুলের ব্যবসার অবস্থা এখন খুব খারাপ। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসা করছি। এখন ছেড়েও দিতে পারছি না।’

সাতক্ষীরায় শহরে পাঁচটি, কলারোয়া উপজেলায় একটি, শ্যামনগরে একটি, কালিগঞ্জ উপজেলায় একটি, তালা সদরে দুইটি, পাটকেলঘাটা সদরে একটি ও দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া বাজারে রয়েছে একটি ফুলের দোকান।

শহরের লাবণী মোড়ের সুগন্ধা দোকানের সত্ত্বাধিকারী আব্দুস সালাম জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। আব্দুস সালাম জানান, সরকারি ও সামাজিক সব ধরনের অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এখন সেগুলো সব বন্ধ রয়েছে। যশোরের গদখালি থেকে ফুল কিনতে হচ্ছে চড়া দামে, তবে বিক্রি হচ্ছে আগের মতো একই দামে। বিক্রিও তেমন নেই। আমার দোকানে আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার ফুল বিক্রি হলেও এখন ৫০০ টাকার ফুলও বিক্রি হয় না। দোকানের চারজন কর্মচারীর খরচও উঠছে না। তাদের বেতনের টাকা দিতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না করে নামেমাত্র খুলে রেখেছি। জেলার ফুল ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারি প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছি।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, জেলায় মাত্র তিনজন ফুল চাষী রয়েছেন। করোনাকালে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর ফুল ব্যবসায়ীদের বিষয়টি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর তদারকি করে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মার্কেটিং অফিসার সালেহ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ বলেন, সাতক্ষীরায় ফুলচাষির সংখ্যা কম। ফুলচাষ ও বিপণনে সম্পৃক্তদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফুল প্রকল্পের আওতায় এসব ফুল ব্যবসায়ী ও চাষি প্রণোদনার আওতায় পড়লে তারা সহায়তা পাবেন। তবে এখনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

সান নিউজ/এআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

মেসির ফ্রি-কিকে ইতিহাস, তবুও হতাশ মায়ামি

ক্যাম্পেওনস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইন্ট...

কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা, যুবক আটক

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হ...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা