আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের প্রথম সেশনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিলেও, দ্বিতীয় সেশনে এসে রীতিমতো খাদের কিনারায় পড়েছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টাইগার শিবিরের ওপর চড়াও হয়েছে আফগান বোলাররা। ফলে প্রথম সেশনের দুর্দান্ত সংগ্রহ পেরিয়ে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে থাকা বাংলাদেশ দল এখন বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৬৪ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২৬৭ রান।
উদ্বোধনী জুটির শক্ত ভিত ও মুমিনুলের আক্ষেপ
এর আগে প্রথম সেশনের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও বেশ সাবলীলভাবেই এগোচ্ছিল। দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরার পর উইকেটে থিতু হয়েছিলেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জুটি দলের রানসংখ্যাকে দুইশ পেরিয়ে ২০০ এর কোঠা পার করে ২০২ রানে পৌঁছে দেয়। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মুমিনুল ফিফটির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের করা খানিকটা ধীরগতির ভেতরের দিকে ঢোকা লেংথ বলটিকে সামনে বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন মুমিনুল। কাভারে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে ৩৯ রান করে তাকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়, যা দলের জন্য প্রথম বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
চার রানের মধ্যে তিন উইকেটের রক্তক্ষরণ
মুমিনুলের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪ রান যোগ করতেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে টাইগাররা। মুমিনুলের বিদায়ের ঠিক পরপরই ইয়ামিন আহমদজাইয়ের অনবদ্য এক মিডল স্টাম্প বরাবর ইনসুইং ইয়র্কারের ফাঁদে পড়ে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের এমন শূন্য রানে ফেরা দলের রানপ্রবাহে মারাত্মক ছেদ টানে। ঠিক এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিনার কায়েস আহমেদের ঘূর্ণি জাদু এবং আফগান বোলারদের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেস ও বুদ্ধিদীপ্ত লাইন-লেন্থের সামনে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। ২৯ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসে তিনিও সাজঘরের পথ ধরলে ২২৫ রান তুলতেই ৫ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশ দল। আফগান বোলারদের এই মরণকামড় দ্বিতীয় সেশনটিকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়।
লিটন-মিরাজের ওপর শেষ ভরসা
দ্বিতীয় সেশনজুড়ে মাত্র ৯৪ রান তুলতেই ৪টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারার শঙ্কার মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কঠিন দায়িত্ব এখন অভিজ্ঞ লিটন দাস এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে। দলের এই শেষ স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ জুটির ওপরই নির্ভর করছে প্রথম ইনিংসে দলের সম্মানজনক সংগ্রহ। এখন পর্যন্ত চরম চাপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই দুজনে মিলে জুটিতে মূল্যবান ৪২ রান যোগ করেছেন। মিরাজ খাতা খোলার অপেক্ষায় থাকলেও লিটন দাস অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। উইকেটের চরিত্র ও আফগান বোলারদের বর্তমান আক্রমণাত্মক বোলিং সামপ্রতিক এই জুটিকে কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সান নিউজ / রাজীব