দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা বাবদ আলাদা করে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ রোববার সচিবালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের কৃতি ক্রীড়াবিদদের সম্মানিত ও সহায়তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩০০ জন অ্যাথলেটকে এই ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে খুব শীঘ্রই মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে এই তালিকায় বড় কিছু পরিবর্তনও আসছে। ইতোমধ্যে পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় ৩১ জনকে ভাতা তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকা কোনো স্থায়ী বিষয় নয় উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, প্রতি চার মাস পর পর অ্যাথলেটদের মাঠের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সেই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই হালনাগাদ করা হবে এই তালিকা। ফলে নিয়মিত পারফর্ম করে যারা যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন, তারাই কেবল এই সুবিধায় টিকে থাকবেন।
নতুন সংযোজন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব শীঘ্রই আরও ৯৫ জন নতুন মুখকে এই তালিকায় যুক্ত করতে যাচ্ছি। তবে দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের প্রত্যাশিত মানের পর্যাপ্ত ক্রীড়াবিদ না পাওয়ায় এখনো ৫০০ জনের নির্ধারিত কোটা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ভালো ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে পেলে তাদের এই সুযোগের আওতায় নিয়ে আসব।’
সাম্প্রতিক ক্রীড়া সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এশিয়ান গেমস ও ফুটবলের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের সন্তুষ্টি বা হতাশার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠের প্রাথমিক ফলাফল কিছুটা হতাশাজনক হলেও আমাদের সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। ইতোমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সার্বিক বিষয় গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
আগামী দিনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আমিনুল হক আত্মবিশ্বাসের সুরেই ঘোষণা দেন, আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর পর বিশ্বমঞ্চে অলিম্পিকে দেশের হয়ে পদক জেতার জন্য লড়াই করবে বাংলাদেশের লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের অংশ হিসেবেই এশিয়ান গেমসসহ বছরজুড়ে ক্রীড়াবিদদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নত করতে এবং তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
সান নিউজ/রাজীব