প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনও বদলে যায়
জাতীয়

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনও বদলে যায়

সান নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। দুই মাস পরপর ঋতু বদলায় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনও বদলে যায়। যে কারণে তারা (বিরোধীরা) ভুলে যায় আমরা কী কী উন্নয়ন কাজ করেছি।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধু টানেলে যান চলবে জানুয়ারিতে

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ৫ম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিয়েছিলাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। আমাদের দেশে মাতৃ মৃত্যুহার, শিশু মৃত্যুহার বেশি ছিল। মাতৃমৃত্যু কমানোর জন্য বিনা পয়সায় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, কিছু লোক দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে পারে না, কিছু ধনী লোক সর্দি-কাশি হলেই বিদেশে চলে যায়। করোনার সময় তারা বিদেশে যেতে না পেরে বাধ্য হয়েই দেশে চিকিৎসা নিয়েছে।

আরও পড়ুন : বাসের ধাক্কায় নারী নিহত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে হত্যাকাণ্ডের পরই ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও জয় বাংলা স্লোগানও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। অবৈধভাবে হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা হয়। জাতির পিতার করে দেওয়া সংবিধানও ক্ষত-বিক্ষত করা হয়।

চিকিৎসকদের অবশ্যই ধৈর্য আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ডাক্তাররা অতিরিক্ত কাজ করেন, মানুষকে সেবা দেন। আজকে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন : আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর দখলের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর আর কোনোদিনই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পালাবদল হয়নি। ২০০১ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিস্টেম ছিল। আমরা সে সময় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি।

ভোটচুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল বাংলাদেশের জনগণ। এরপরে যে নির্বাচন হয় সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।

আমরা রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা চাই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চাই।

আরও পড়ুন : বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

তিনি বলেন, এখন সব জায়গায় রিজার্ভ নিয়ে কথা হয়। জাতির পিতা শূন্য রিজার্ভ নিয়ে শুরু করেছিলেন। ৯৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন রিজার্ভ ছিল ২.৫৭ বিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সেটা উন্নীত করেছে। টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে।

করোনার কারণে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকায় রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। এখন করোনা না থাকার কারণে আমদানি ও রপ্তানি বেড়েছে।

এছাড়া করোনার ভ্যাকসিন কেনা, সেগুলো মানুষকে দিতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, সিরিঞ্জ কেনা, ফ্রিজার ভাড়া করা। এসবের কারণে টাকা খরচ হয়েছে।

আরও পড়ুন : সমাবেশের অনুমতি পাবে বিএনপি

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচও। তাই সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুৎ, পানি কোনোকিছুর যেন অপচয় না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যত দামই বাড়ুক খাদ্য কিনতে হচ্ছে। ২০০ ডলারের গম ৬০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ব্রাজিল থেকে শুরু করে যে দেশে পাচ্ছি ভোজ্যতেল কিনতে হচ্ছে। যে কারণে রিজার্ভ কমে গেছে। আমরা শ্রীলংকাকে সহযোগিতা করেছি। আরও অনেক দেশ চেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ রাখা লাগে কিসের জন্য? যাতে তিন মাসের খাদ্য আমদানি করতে পারি। আমাদের যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ৫ মাসের খাদ্য আমদানি করতে পারব। তবে যাতে খাদ্য আমদানি করতে না হয়, এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখবেন না, উৎপাদন করুন।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত

বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করবোই।

সরকার প্রধান বলেন, কখনো কোনো হত্যাকাণ্ড হলে আমার কাছে যখন বিচারের দাবি করা হয়, তখন আমার মনে হয়-আমার বাবা-মা-ভাইদের হত্যার বিচার পেতে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তবুও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া ও জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, তারা ভোট দিয়েছেন বলেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখনও কিছু খুনির শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। একজন খুনি আমেরিকায়, আরেকজন কানাডায়, দুইজন পাকিস্তানে। আরেক জনের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন : শক্তি দেখিয়ে নির্বাচন হবে না

আমেরিকা একজন খুনিকে লালন-পালন করছে। অবশ্য আমেরিকার আচরণই এরকম। তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা আছে, তাদের ধরে এনে যেভাবেই হোক শাস্তি নিশ্চিত করবো। এটাই আমি চাই।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় আওয়ামী লীগেরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা