জাতীয়

ভাষা শহীদদের প্রতি সকালে শ্রদ্ধা বিকালে অশ্রদ্ধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না, করে শুধু মিছে কোলাহল’। কবিগুরুর লেখা এই কথাগুলো যেন আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি বিকালে মহান শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কোলাহলকে নিয়েই লেখা।

এদিন বিকালে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা গেল হাজার হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে আছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ, যুগল, স্বামী-স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, মা-বাবা-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব। তাদের অনেকেরই পোশাকে ছিল শোকের কালো রং। হাতে ছিল শ্রদ্ধার ফুল।

তবে কালো রং বা ফুল থাকলেও সেই শোক বা শ্রদ্ধা মনে কতখানি ছিল, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। সন্দেহের নানা কারণ থাকলেও দৃশ্যত একটি কারণ তো বলাই যায়। সেটি হচ্ছে, এদিন সকাল বেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যারা গিয়েছিলেন, তারা জুতা খুলে খালি পায়ে বেদীতে উঠলেও, বিকেলে ও সন্ধ্যায় ছিল শহীদ মিনারময় জুতা পায়ে মানুষের অবাধ বিচরণ।

তাদের কেউ শহীদ মিনারের দলবদ্ধভাবে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করেছেন। কিন্তু মূল স্তম্ভ ঘেঁষে পূষ্পার্ঘ অর্পণের সময়ও তারা জুতা খুললেন না। আবার কেউ স্তম্ভের রড ধরে ঝুলে থেকে শারীরিক নানান কশরত দেখিয়ে সেলফি / ছবি তুলছেন, কিন্তু জুতা পায়ে। কেউ আবার মূল স্তম্ভে হেলান দিয়ে বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু খুললেন না জুতা।

জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে হেঁটে চলা হাজারো মানুষের একজন সালাহ উদ্দিন। এসেছেন রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে। জুতা না খোলা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রথমে যেন অবাকই হলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী তারপর বললেন, ‘শুধু আমি কেন? আপনি ছাড়া কেউ তো জুতা খোলেনি!’

ব্যাংক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম এসেছিলেন ধানমণ্ডি থেকে, তিনিও অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তো, জুতা খুলে রাখবো কোথায়?’

আর বাদাম বিক্রেতা মনসুর মিয়া বললেন, ‘সকালে জুতা নিয়া উঠতে দেয় নাই। এখন তো অসুবিধা নাই!‘

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করতে সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দ্দিষ্ট নির্দেশ আছে। তবে তা কাগজে-পত্রেই। এমনকি বছরে একদিন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও তা পালন করতে দেখা গেল না!

প্রসঙ্গত, ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতিরক্ষায় ২০১০ সালের আগস্টে আট দফা নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মমতাজউদ্দিন ও বিচারপতি নাইমা হায়দারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতিরক্ষার্থে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে ওই বছর ৯ ফেব্রুয়ারি পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে রিটটি করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ ব্যাপারে সরকারের প্রতি রুল জারি করে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আট দফা নির্দেশনা দিয়ে আদালত ওই রায় দেয়। সংগঠনটির পক্ষে আদালতে শুনানি করেছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন (রোববার)বিকেলের এই অবস্থা তুলে ধরে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা নিশ্চিত রাখার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তারা প্রতি বছর এই দায়িত্বটি পালন করে আসছে। তবে এবার কেন হলো না, এই জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দায়ী।

সাননিউজ/এমএ/টিএস/

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পঞ্চগড়ে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালি...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আ'লীগ কর্মীকে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নে...

জামিন পেলেন পরীমনি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদাল...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা