রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘পরিবেশবান্ধব দুর্গাপূজা’। সার্বিক আয়োজন, নিরাপত্তা ও বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
এবারের আয়োজনে মোট ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে সংগৃহীত হচ্ছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও অনুদানের মাধ্যমে। প্রতিমা তৈরি, নান্দনিক সাজসজ্জা এবং টানা ছয় দিন ধরে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণে এই অর্থ ব্যয় হবে। সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ১০ লাখ টাকা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখে এবারও শিল্পী সুকুমার পালের তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিমার রঙের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শুক্রবার (দুর্গাষষ্ঠী) সকালে তা সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি মণ্ডপ চত্বরে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাঁশের বেড়া বা বাউন্ডারি তৈরি এবং বিজ্ঞাপন বোর্ড বসানোর কাজ। মণ্ডপের ভেতরের অংশে বিশেষ সাজসজ্জার অংশ হিসেবে কৈলাস পর্বতের ছবি-সংবলিত পোস্টার যুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ভিআইপি উপস্থিতি
নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর পক্ষ থেকে মেলাঙ্গনজুড়ে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকক্ষও এখানে সক্রিয় থাকবে।
পূজা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের মহোৎসবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি এবং অষ্টমীতে ভারতের হাইকমিশনারের প্রসাদ বিতরণ উদ্বোধনের কথা রয়েছে। প্রসাদ বিতরণের পরিসর বড় হওয়ায় এবার সামগ্রিক বাজেটও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সারা দেশ ও ঢাকা মহানগরের পূজার পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের (৩৩ হাজার ৩৫৫টি) তুলনায় কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে এবার মোট ২৫৭টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। গত বছরের তুলনায় মহানগরে দুটি পূজা কম হওয়ার কারণ হিসেবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাভারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের পূজাসংখ্যা মহানগরের তালিকায় গণনা করা হয়নি।
উৎসবের সূচি ও ছুটির আমেজ
গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে সূচনা হওয়া শারদীয় উৎসবের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ঘরমুখী যাত্রার সুবিধার্থে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন এবং ছুটির দিনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব