মতামত

৪৩ বছরে বিএনপি

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের এ দিনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ৪৩ বছর অনেক বড় সময়। ঠিক কোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে দলটি, তার হিসাব-নিকাশ অনেকভাবেই করা যায়। তবে রাজনীতি চর্চার রোমাঞ্চ যে সব সময় ভোগ করা যায় না, সেটা এই দলের নেতারা বহুদিন ধরেই দেখছেন।

জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি, দুটো দলই সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে বিভাজন অনেক। অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্ব এখনও জিয়া পরিবারের হাতেই আছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি বড় দল, কিন্তু তার রাজনীতি নিজের কর্মী-সমর্থকদের কাছেই অনেকটা অজানা। চার দশক পার করা দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দলের বর্তমান ধোঁয়াশায় ভরা এবং ভবিষ্যৎ অজানা। কারণ, রাজনীতিতে বিএনপির এখন বিশেষ কোনও ভূমিকা নেই। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের দিকটিও স্পষ্ট নয়। আদর্শগত দিক থেকে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সখ্য কতটা রাখবে আর দূরত্ব কতটা বজায় রাখবে সেই হিসাবের কোনও সুরাহা এখনও হয়নি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে কতটা ভারত-বিদ্বেষ আর কতটা ভারতপ্রীতি হবে সেই অবস্থানও পরিষ্কার নয়। মাঠের রাজনীতিতে আন্দোলনে অসফল যেহেতু, সেহেতু চুপ করে থেকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে কিনা, সেটিও দৃশ্যমান নয়।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির বড় পরাজয় ঘটেছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর চার মাস ধরে সংসদে না যাওয়ার ব্যাপারে দলটির শক্ত অবস্থান ছিল। মির্জা ফখরুলকে যেতেও দেওয়া হয়নি। তবে অন্য ছয় সদস্য সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে গেলে বিএনপির শীর্ষ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুমতি দিতে বাধ্য হন। সংরক্ষিত আসনে একজন নারী সদস্যও মনোনীত করেন। অথচ একদিন আগেই শপথ নেওয়ায় জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কারও করেছিল দলটি।

বিএনপির এই রাজনৈতিক রোমাঞ্চ চলছে সংসদে ও সংসদের বাইরে। কিন্তু কোথাও কোনও প্রভাব নেই। রাজনীতি আসলে সরলরেখায় চলে না। বিএনপির রাজনীতি কোন পথে চলবে তা বোঝা কঠিন। তবে আপাতত দলের সবার রাজনৈতিক পাঠের ভিত্তি এটুকুই যে লন্ডন থেকেই দল পরিচালিত হচ্ছে এবং হতে থাকবে। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট করেও ভোটের মাঠে সফলতা পায়নি বিএনপি। ছয় জন সদস্য নিয়েও সংসদে শপথ নিতে বাধ্য হয়েছিল। সেই সময় নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, রাজনীতির দাবার চালে হেরে গেছে বিএনপি।

রাজপথে থাকা, সমাজের মানুষকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা, মানুষের জন্য দাবি আদায় করা সহজ কাজ নয়। অবশ্য দলটি মানুষের দাবির খুব কাছে যেতে পেরেছে এই সময়ে সে প্রমাণও খুব একটা নেই। দলের সবকিছু পরিচালিত একটি বৃত্তে, বেগম জিয়া ও তারেক রহমান বিষয়ক জটিলতায়। এখনও দলের একমাত্র ফোকাস দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার চিকিৎসা।

বিএনপি মূলত ক্ষমতায় থেকে জন্ম নেওয়া দল। তবে অনেক দিন ধরে রাজপথে আছে। সে ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু এই ক্ষমতার রাজনীতি রূঢ় বাস্তব দিয়ে ঘেরা। সে রাজনীতির চর্চায় খুব কষ্ট, ঝুঁকিও বড় বেশি, বিপাকে পড়লে নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রভূত। আর সেখানেই নেতৃত্বের অনীহা।

স্পষ্টতই ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নেতৃত্ব রাজনীতির গভীরতা মাপছিলেন। কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলেন না কোথায় যাবেন। এই নির্বাচনে দলের যে ফলাফল হয়েছে তাতে সরকারকে একতরফা দোষ দিয়ে, আগের রাতে ভোট হয়েছে ইত্যাদি অভিযোগ করে রাজনীতির মাঠে নিজেদের খুব একটা গুরুত্ব বাড়াতে পারছিল না নেতারা। ঐক্যফ্রন্ট অকার্যকর হয়েছে নির্বাচনের পরপরই। নিজেদের দলীয় মনোবল আর চাঙা করার কোনও উপায়ই খুঁজে পায়নি গত তিন বছরে।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের কাজ হলো দেশের মানুষের চাহিদা-আকাঙ্ক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট দাবিতে পরিণত করে তার রূপায়ণের প্রচেষ্টা নেওয়া। সেই বিবেচনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক জটিল পরিবেশে বিএনপি। সংসদে দুর্বল, রাজপথেও শক্তিহীন। তাই বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটা বৈরী সময় পার করছে গত ১৫টি বছর।

বিপ্লব করার আকাঙ্ক্ষা ভালো। তবে যে সংগঠনকে ভিত্তি করে বিপ্লবের পরিকল্পনা হয়, বিপ্লব ব্যর্থ হলে বেচারা সংগঠনকেই তার ঠেলা সামলাতে হয়। বিএনপির বেলায় তেমনটাই হয়েছে। তারেক রহমান দেশে ফিরে কবে আসল রাজনীতি করবেন সেটা দেখার অপেক্ষায় তার দলের কর্মীরা। দেশের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নেমে দেশ থেকে দূরে বসে সবকিছু করা যায় না। সাংবাদিক হিসেবে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা হলে তারা বলেন, সংকট থেকে বের হতে দলটির নেতৃত্বের প্রথম সারিতে নতুন মুখ দরকার, শুধু লন্ডন কেন্দ্রিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল চলে না।


লেখক: প্রধান সম্পাদক, জিটিভি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা