ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও নীতির প্রতিবাদে দেশের তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) গড়ে ওঠা আন্দোলন এবার তীব্র রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করেছে। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে গিয়ে আজ রাজধানীর বুকে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত করে তোলা এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
অবরুদ্ধ পরিস্থিতি ও আকস্মিক অবস্থান ধর্মঘট : আজ শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ। শুরু হয় নির্বিচারে ধরপাকড়।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তরুণদের ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করতে তিনি যখন বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন, তখনই পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।
দিল্লির প্রশাসন তাকে বাইরে যেতে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশের এমন কঠোর পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি থেকে বের না হতে পেরে সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাতালেই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে অবস্থান ধর্নায় বসে পড়েন।
দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আপডেট শেয়ার করেন।
কাদের সঙ্গে নিয়েছিলেন এই অবস্থান : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদী কর্মসূচিতে তার সঙ্গে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের একদল প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। পুলিশ যাদের আটক করেছে সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো—
দোলা সেন
প্রতিমা মণ্ডল
ডেরেক ও’ব্রায়েন
সামিরুল ইসলাম
সাকেত গোখলে
পুলিশের ভূমিকা ও মমতার কড়া হুঁশিয়ারি : বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের শাসকদল ও দিল্লি পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের তরুণ সমাজ বা জেন-জি তাদের এই আন্দোলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আর তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিজেপির অনেক নেতাকর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পুলিশি বাধার মুখে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে পৌঁছাতে না দিলে তিনি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই বাসস্ট্যান্ডেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ আন্দোলনকারীদের পুলিশ বাসে তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরিয়ে হয়রানি করছে।
এমনকি অসুস্থতা সত্ত্বেও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে এবং তাকেও রাস্তায় দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।
তরুণদের এই প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ এখন চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব