অপরাধ

গেঞ্জিতে ছিল হত্যাকাণ্ডের সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাকার জন্যই খুন হন জুয়েল মিয়া। পরে তাকে একটি ড্রামে ভরে মিরপুর এলাকায় ফেলে যায় বন্ধুরা। প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে জুয়েলের মৃতদেহ পায় পুলিশ। পরে পরনে থাকা গেঞ্জির সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় তিন সঙ্গীকেও।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ১৭ তারিখ প্রথম প্রহর রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক সুইপার পুলিশকে জানান, মিরপুর লাভ রোডে রাস্তার উপর নীল রংয়ের একটি ড্রাম পড়ে আছে। ড্রামের ভেতর একটি মৃতদেহ। এ তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

তাৎক্ষনিকভাবে মৃতদেহের পরিচয় ও ড্রামটি কোথা থেকে এল তা জানতে ব্যার্থ হয় পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। থানা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হয়।

শেষ পর্যন্ত একটি সূত্র পাওয়া যায়। মৃতদেহের পরনে থাকা গেঞ্জিতে লেখা ছিল- সাফল্যের পথে একসাথে। এই স্লোগানের সূত্র ধরেই পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃতের নাম জুয়েল রানা। চাকরি করেন একটি টোব্যাকো কোম্পানিতে। তার পরিবারকে খবর দেয় পুলিশ। মৃতদেহের ছবি দেখে স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করেন জুয়েলের স্ত্রী। পরে তিনি মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

আসামীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে উপ-পুলিশ কমিশনার মাহতাব উদ্দিন বলেন, শনাক্তের পর- লাশ কোথা থেকে এল- আমরা তার তদন্ত শুরু করি। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজসহ গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত শুরু হয়। মৃতের এক বন্ধু মিরাজকে আমরা গ্রেপ্তার করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাইফুল ও সোহাগ নামে আরও দুজন গ্রেপ্তার হয়। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটল, এ প্রসঙ্গে মাহাতাব উদ্দিন জানান, মিরাজ একটি দুধ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে চাকরি করেন। জুয়েলের সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল। প্রতি ডেলিভারিতেই জুয়েলের কাছে কালেকশনের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা থাকতো। এই কথা ভালো করেই জানতো মিরাজ। টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই সে মূলত জুয়েলকে হত্যা করে। হত্যার সময় সহযোগী হিসেবে নেয় বাকী দুজনকে।


কিভাবে আসামিরা গ্রেপ্তার হলেন

সোমবার প্রথম প্রহর রাত আড়াইটা দারুস সালাম গৈদার টেক এলাকায় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় মিরাজকে। এ সময় তার কাছে জুয়েল রানার কাছ থেকে নেয়া ৩৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। মিরাজের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কাভার্ড ভ্যান ও এর ভেতরে থাকা জুয়েল রানার মার্লবোরো সিগারেট কোম্পানির আইডি কার্ড, চার কার্টুন মার্লবোরো সিগারেট ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়।

মিরাজের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পল্লবী সেকশন-১১ কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু সাইফুল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামির দেয়া তথ্যে মিরপুর মডেল সেকশন-২ এলাকা থেকে মো. রাসেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয় যেভাবে

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, হত্যা করার উদ্দেশে জুয়েলকে তারা ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে জুয়েল সেখানে আসলে মিরাজ ও সাইফুল তাকে মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট খাওয়ায়। এক পর্যায়ে আসামী রাসেল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

ইয়াবা সেবনের সময় পরিকল্পনা মতো জুয়েলকে পেছন থেকে রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে ধরে সাইাফুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জুয়েলের পা চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মিরাজ। পরে জুয়েলের পকেটে থাকা মার্লবোরো কোম্পানির মালামাল বিক্রির ৭৬ হাজার টাকা নিয়ে নেয় তারা।

এদিকে, জুয়েলের মৃতদেহ গোপন করার জন্য সেকশন-১১ থেকে একটি নীল রংয়ের ড্রাম কিনে আনে মিরাজ ও সাইফুল। মৃতদেহটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে এটি ফেলার জন্য নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে আসামীরা পরিকল্পনা করে ড্রামটি মিরপুর সেকশন-২, লাভ রোডস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় মিরপুর হাউজিং এস্টেট এর সরকারী অফিসের বিপরীত পার্শ্বে রাস্তার উপরে রেখে চলে যায়।


সাননিউজ/ জেআই

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা