ফেনীতে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকের ধাক্কায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) উপসহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন বিকন মডেল কলেজ সড়কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আলমগীর হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনাকিয়া গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আলমগীর হোসেন ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল র্যাবে যোগ দেন। চলতি বছরের ১৭ মে তিনি এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পে উপসহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ট্রাকচালক সজীব (৩০) এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসআরবি ফেনী ক্যাম্প ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন মহাসড়কে এসআরবির একটি দল চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময় আলমগীর হোসেন সড়কের পাশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি সড়কের এক পাশে গিয়ে থামে।
সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এসআরবি সদস্য শরীফ বলেন, ‘চেকপোস্টে আমরা ১৫ থেকে ১৬ জন ছিলাম। স্যার সড়কের পাশেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগতির ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দিয়ে সড়কের এক পাশে গিয়ে থামে।’
এসআরবির আরেক সদস্য আবদুল জলিল বলেন, আলমগীর হোসেন অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি ধর্মভীরু ছিলেন। তার পাঁচ সন্তান রয়েছে এবং তারা সবাই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। সহকর্মীর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাইফুর রহমান বলেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে এসআরবির ওই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার কোমর থেকে নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেকপোস্টে আমিও দায়িত্বে ছিলাম। আমার থেকে কিছুটা দূরে আলমগীর হোসেন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগতির ট্রাকটি এসে মুহূর্তের মধ্যে তাকে চাপা দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমাদের একজন সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।’
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্ত শেষে বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সান নিউজ/ রাব্বি