বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটি জয়ের রাঙিয়ে বিদায় নিলেন এই মহাতারকা। ৩-০ গোলের এই জয়ে একটি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল।
স্বদেশের জার্সিতে মেসির এই স্মরণীয় বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, পুরো একটি জীবনের গল্প যেন এক রাতেই মিলে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ যেভাবে মেসিকে ভালোবেসেছে এবং তার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়েছে, তা অত্যন্ত সুন্দর এক দৃশ্য ছিল। মেসির বিনয়, কঠোর পরিশ্রম ও দেশের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাই তাকে আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মেসির এই বর্ণিল যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে নিজের সৌভাগ্যের কথাও প্রকাশ করেন আন্তোনেলা।
এদিকে বর্ণিল এই বিদায়লগ্নে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় এল জুগোরিকে। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন থেকে শুরু করে মনুমেন্তালের আকাশে বিশেষ ড্রোন শো—সবকিছু মিলিয়েই আর্জেন্টাইন জাদুকরকে ঘিরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচেও নিজের চিরচেনা ছন্দে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দিকে দিয়ে প্রথম গোলটি করান তিনি। এরপর নিকো পাজের গোলেও দারুণ অ্যাসিস্ট করেন মেসি। আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও সফল সমাপ্তি টানেন।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই সতীর্থদের উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত হন মেসি। গ্যালারিজুড়ে উপচে পড়া সমর্থকের হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার বিদায়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
সান নিউজ / রাজীব