বেশ কিছুদিন ধরে জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ ও কার্যকর বিশেষজ্ঞ কোচের সন্ধান করছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শেষ পর্যন্ত সাবেক সফল কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এবং ওটিস গিবসনের জোরালো সুপারিশ আর নিজেদের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে কাঙ্ক্ষিত সেই মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছে বোর্ড। আর দেরি না করে দ্রুত আলোচনা সেরে বিসিবি চূড়ান্ত করে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ মালিবঙ্গুয়ে মাকেতাকে, যাঁর ক্রিকেটে পরিচিতি মূলত ‘মালি’ নামেই। আগামী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর থেকেই লাল-সবুজের দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন ৪৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ।
বিসিবি এমন একজন কোচ খুঁজছিলেন যিনি চাকচিক্যময় নামের চেয়ে কাজের মূল্যায়নে এগিয়ে থাকবেন এবং ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবেন। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই মূলত মাকেতাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এই পদে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি মূলত হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েই এখন জাতীয় দলের তরুণ ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের শাণিত করার দায়িত্ব নিচ্ছেন মাকেতা।
বিশ্ব ক্রিকেটের বড় মঞ্চে খুব পরিচিত মুখ না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে মাকেতাকে অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন আহামরি কিছু ছিল না; একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি খেলেছিলেন ২০০০ সালে। মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও মাত্র ২৫ বছর বয়সেই কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। স্কুল ক্রিকেট দিয়ে শুরু করে অত্যন্ত দ্রুত নিজের মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে তিনি পৌঁছে যান সাফল্যের শিখরে।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে নরর্দান্স রাজ্য দলের প্রধান কোচ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। তাঁর নিখুঁত পরিকল্পনা ও কোচিংয়ে ২০১০-১১ মৌসুমে ঘরোয়া একদিনের ক্রিকেট এবং পরের বছর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল তাঁর দল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ লেভেল-৪ কোচিং সার্টিফিকেট অর্জন করেন মাকেতা। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওটিস গিবসনের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ এবং পরবর্তীতে ‘এ’ দল ও জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির প্রধানের দায়িত্বও সফলভাবে সামলেছেন তিনি। ২০২২ সালে মার্ক বাউচার পদত্যাগ করার পর অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। এছাড়া তাঁর কোচিংয়েই ২০২৩, ২০২৪ ও সাম্প্রতিক যুব বিশ্বকাপে খেলেছে প্রোটিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
বাংলাদেশের এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পেরে ভীষণ রোমাঞ্চিত ও উচ্ছ্বসিত মালিবঙ্গুয়ে মাকেতা। বিসিবির ওপর নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের তরুণ ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের সুপ্ত প্রতিভাবানদের ফুটিয়ে তুলতে এবং তাদের ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অন্যান্য কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এদিকে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের ২৭ হাজার ডলার বেতনের বিপরীতে মাকেতার মাসিক পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে আট হাজার ডলার। তুলনামূলক এই সাশ্রয়ী মূল্যে এমন উঁচুমানের একজন দক্ষ কোচকে দলে ভেড়াতে পেরে বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিসিবি কর্তারা।
আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এরপর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি রোমাঞ্চকর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজ দিয়েই মূলত লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমে মালিবঙ্গুয়ে মাকেতার অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
সান নিউজ/রাজীব