প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষা দিতে এসে কেন্দ্রে ওএমআর শিট পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা আনোয়ার হোসেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে জানানো হয়, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কেন্দ্রে এ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন আনোয়ার। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ করেন তিনি ও অন্য চাকরিপ্রার্থীরা।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে এসেছি। পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে আমার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল। সেখানে ওএমআর শিট হাতে পাওয়ার অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ আমাদের বলা হলো, পরীক্ষা স্থগিতের কথা।’
পরীক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়? এর সঙ্গে অবশ্যই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা জড়িত। আমরা জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’
পরীক্ষা দিতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে আসা নাজিম উদ্দীন বলেন, প্রায় তিন লাখের বেশি আবেদন করেছে। আমার কেন্দ্র ছিল তেজগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সবাই পরীক্ষা দিতে এসেছে। পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোতে হলে এই ভোগান্তি হতো না।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সান নিউজ/ হেনা