কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের মাদাজালফাড়া গ্রামে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রতিবন্ধিতার শিকার এক অসহায় নারী ও তাঁর নবজাতক সন্তান চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুটির পিতৃপরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় এবং পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে দেখাশোনা করার সক্ষমতা না থাকায় মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এনিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর থেকে গত ৮ অক্টোবর প্রণীত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের হলোখানা ইউনিয়নের মাদাজালফাড়া গ্রামের মোছা. সুমী খাতুন একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুটির নাম নির্ধারণ করা হয়নি। শিশুটির পিতৃপরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির মা মোছা. সুমী খাতুন দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রতিবন্ধিতার শিকার এবং তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত। তাঁর বাবা ও মা মানসিক ও বহুমাত্রিক সমস্যায় ভুগছেন বলে সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষে নবজাতক শিশুটির সার্বিক পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সমাজসেবা কার্যালয়ের সরেজমিন তদন্তে শিশুটিকে দ্রুত পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে মা, নবজাতক ও তাঁদের পরিবারের জন্য নিরাপদ জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় অসহায় মা ও নবজাতকের চিকিৎসা, পুষ্টি, নিরাপদ আশ্রয়, যথাযথ পরিচর্যা এবং সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুটির আইনসম্মত পরিচয় নির্ধারণ, জন্মনিবন্ধন এবং উপযুক্ত পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করছেন। তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের অনিশ্চিত জীবন থেকে সুরক্ষিত পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ সহ সরকারি সহায়তা ও কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীরা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর পাশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাননিউজ/বান্না