নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে পরিচিত সাইফুদ্দিন বাবুল এবার স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে নোয়াখালী বঙ্গবন্ধু দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ছিলেন। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন নয়ন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদ নবগঠিত কমিটির অনুমোদন দেন।
অনুমোদিত নয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন আবদুর রহিম, সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ আলা উদ্দিন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন আলমগীর হোসেন ও রাশেদ রানা।
এদিকে সাইফুদ্দিন বাবুলকে সভাপতি নির্বাচিত করায় দলিল লেখকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাবুলের কর্মকাণ্ডে দলিল লেখকদের পেশাগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবার মান ব্যাহত হয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব ঘটনার জেরে তাঁর দলিল লেখার সনদও বাতিল করা হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ৫ আগস্টের পর বাবুলের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তাঁদের মতে, এ অবস্থায় তাঁকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই, তার নোয়াখালী সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতির পদে জাতীয়তাবাদী শক্তির নিবেদিত ব্যক্তিকে পদায়ন করতে পুনঃবিবেচনার দাবী তুলেছেন তারা।
নোয়াখালী জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সায়েম সোহান বলেন- এই কমিটিতে সাইফুদ্দিন বাবুলকে কিভাবে সভাপতি করা হলো তা তিনি জানেন না। এটা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব মহোদয়রা ভালো বলতে পারেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলো নোয়াখালী সদর দলিল লেখক সমিতির কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- বাবুল এক সময় সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতি করতো। মাঝখানে ব্যবসা-বাণিজ্য'সহ বিভিন্নভাবে বেকায়দায় পড়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশেছিল। পূর্বের ঘটনায় অনুতপ্ত প্রকাশ করে এখন সে আবারও বিএনপির জন্য কাজ করছে। তাই তাকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি করা হয়েছে।
সাননিউজ/বান্না