ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে।
এর মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা নামের দুই শীর্ষ নেতা এখনও বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। তাদের দ্রুত মুক্তি না দিলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের বিষয়ে ভারতের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালের সঙ্গে ইতিমধ্যেই পরামর্শ করা হয়েছে। সিজেপির অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেআইনি হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে।
দলীয় নেতাদের কারাগারে আটকে রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি, এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আটক দুই নেতার মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তারা এখন কেবল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন।
সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনো অপরাধ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন।
দিল্লির এই ঘটনার পর ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মহারাষ্ট্রের পুনেতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিজেপি।
কালেক্টর অফিসের কাছে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত এই বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
সান নিউজ / রাজীব