রাজধানীতে সেই ২০১২ সালে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর পার হলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সব নথি দেখাতে টাস্কফোর্সের প্রধান ও তানভীর জোহাকে আগামী ২৯ এপ্রিল ২০২৭ হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও তানভীর জোহা টাস্কফোর্সকে জানিয়েছেন বলে হাইকোর্টকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনের আগেই সময় চেয়ে আবেদন করে টাস্কফোর্স। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এরপর ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর ও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তিন দফায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আরও ছয় মাস করে সময় দেয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় ওঠে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাননিউজ/বান্না