সারাদেশ

আখের স্থান দখল, বৈলতলা এখন 'লেবুর গ্রাম'

আবুল কাশেম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

​একসময় যে জমিতে মোটাদাগে চাষ হতো আখ, সেসব জমিতে এখন বইছে লেবুর মিষ্টি সুবাস। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রামজুড়েই এখন শুধুই লেবু চাষের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ৩০ বছর আগে শুরু হওয়া এই চাষ এখন বৈলতলার প্রতিটি চাষির প্রথম পছন্দ। গ্রামের সিংহভাগ মানুষই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন লেবু চাষের সঙ্গে। সারা বছর লেবু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় স্থানীয়দের ব্যস্ত জীবন। বহু পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এই অর্থকরী ফসল।

​সরেজমিনে বৈলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যেদিকে দু'চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। গ্রামের আঁকাবাঁকা পিচঢালা সরু পথের দুই ধারে এবং চারপাশের প্রতিটি জমিতে গড়ে উঠেছে সারি সারি লেবুর বাগান। নিবিড় সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে কাগজি, এলাচি, সীডলেস, কলম্বো ও দেশি জাতের লেবু। বাগানের এই চিরহরিৎ দৃশ্য যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি বাতাসে ভেসে আসা লেবুর গন্ধে প্রাণ সতেজ হয়ে ওঠে।

​বাগানগুলোতে এখন চাষি ও শ্রমিকদের তুমুল ব্যস্ততা। কেউ গাছে সার প্রয়োগ করছেন, ডালপালা ছাঁটাই বা সেচ দিচ্ছেন; আবার কেউ শ্রমিক দিয়ে বাগান থেকে লেবু তুলছেন। সংগৃহীত লেবু ঝুড়িতে করে রাস্তার পাশে জমা করা, ছোট-বড় ও পাকা লেবু বাছাই করা এবং চালানের জন্য খাঁচায় ভরে ট্রাকে তোলার কাজে মুখরিত চারপাশ।

​গ্রামের বেশ কয়েকজন স্থানীয় চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের কাছে লেবু চাষ শুধু একটি ফসল উৎপাদন নয়; এটি এখন সংসারের সচ্ছলতা ও আয়-রোজগারের প্রধান অবলম্বন। একসময় একজনের দেখাদেখি অন্যজন বাগান শুরু করেছিলেন। ক্রমান্বয়ে তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

​গ্রামের প্রবীণ চাষি খোর‌শেদ আলম (৬৮) বলেন, ‘৩০ বছর আগে আমাদের এলাকায় আখের চাষ বেশি হতো। কিন্তু আখের তুলনায় লেবুতে লাভ বেশি হওয়ায় গ্রামের সবাই লেবুর আবাদে ঝুঁকতে শুরু করে। বৈলতলা গ্রামটি এখন সত্যিই 'লেবুর গ্রাম' নামে পরিচিতি পেয়েছে।’

​২৫ বছর ধরে লেবু চাষ করা শাহ আলম (৫০) জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বাগান করেছেন। তাঁর মতে, ‘একবার লেবুর চারা রোপণ করে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে টানা ১০ থেকে ১২ বছর ফলন পাওয়া যায়। বছরে অন্তত চারবার বিপুল পরিমাণ লেবু তোলা যায়। তা ছাড়া সারা বছরই কম-বেশি লেবু বিক্রি করে সংসার চালানো সম্ভব।’ পৌনে দুই বিঘা জমিতে লেবু চাষ করা প্রবীণ কৃষক আব্দুল মালেক (৭৬)-ও একই কথা জানান।

তবে উৎপাদিত ফসলের সঠিক বাজারদর না পাওয়া, রোগবালাই এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে মাঝেমধ্যে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় বলে জানান কৃষকেরা।

​স্থানীয় সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, ‘আমার বাড়িও বৈলতলা গ্রামে এবং আমি নিজেও ৯ বিঘা জমিতে লেবুর আবাদ করেছি। প্রায় ৩০ বছর আগে আমাদের গ্রামের নিজাম উদ্দিন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে লেবু চাষ শুরু করেছিলেন। লাভজনক হওয়ায় ধীরে ধীরে সবাই এতে যুক্ত হন। বর্তমানে প্রতিদিন এই গ্রাম থেকে লেবু ভর্তি ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে পৌঁছে যায়।’

​এ বিষয়ে সাটুরিয়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, চলতি মৌসুমে সাটুরিয়া উপজেলায় মোট ১১০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বৈলতলা গ্রামেই ৯০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। বৈলতলা গ্রামটি এখন জেলাজুড়ে লেবু চাষের অন্যতম মডেল।

​সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রামে সবচেয়ে বেশি লেবু বাগান রয়েছে। এখানে এলাচি, সীডলেস, কলম্বো, কাগজী ও স্থানীয় নানা জাতের লেবু চাষ হয়। গুণগত মান ভালো হওয়ায় এই গ্রামের লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সারা দেশজুড়ে।’

সাননিউজ/বান্না

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা