ভারতের উত্তরাখন্ডের আলোচিত অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যা মামলার বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত নিহতের মা-বাবাকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচনা করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও ক্লিপ সংযুক্ত করে পোস্টটি করেন ধ্রুব রাঠি।
ভিডিওটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের সৌজন্যে সংগ্রহ করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ওনারা হলেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা–বাবা। অঙ্কিতা এমন এক তরুণী, যাকে এই একই ব্যবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। এখন তারা তার মা–বাবাকেও রেহাই দিচ্ছেন না।’ নরেন্দ্র মোদি ‘বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট : ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখন্ডের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ১৯ বছর বয়সী তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার চার দিন পর স্থানীয় একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় রিসোর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, রিসোর্টে আসা এক প্রভাবশালী অতিথিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য অঙ্কিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রিসোর্টের সেই কথিত ‘ভিআইপি’ অতিথির পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠতে থাকে।
নিহতের পরিবার শুরু থেকেই এই ভিআইপি ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে আদালত মূল অভিযুক্ত পুলকিত আর্যসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে মূল রহস্যের ভিআইপি চরিত্রের পরিচয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লিতে মা-বাবার বিক্ষোভ ও আটককাণ্ড : মেয়ের জন্য চূড়ান্ত ন্যায়বিচার এবং মামলার অস্পষ্ট দিকগুলোর সুরাহার দাবিতে সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভে অংশ নেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা-বাবা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে অবশ্য শুক্রবার সকালেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে চলা বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক সমীকরণেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আলোচনায় রয়েছেন ধ্রুব রাঠি। অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা-বাবাকে আটকের এই ঘটনায় মোদি সরকারের প্রশাসনকে এক হাত নিলেন এই প্রভাবশালী ইউটিউবার।
সান নিউজ / রাজীব