কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের অবয়ব বিকৃত করে মানহানিকর ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। অন্যের সম্মানহানি করে তা থেকে ভিউ ও অর্থ উপার্জনের মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হায়ার করে মেহজাবীন ও পরিমনির মতো পরিচিত মুখগুলোর চেহারা ব্যবহার করে কিছু অরুচিকর এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এই অভিনেত্রী।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও বানিয়ে তা ভাইরাল করার সংস্কৃতিকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেহজাবীন। মেহজাবীনের মতে, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট কেবল বিনোদনের খোরাক জোগায় না, বরং এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়ংকর চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
যখন শত-সহস্র মানুষ না ভেবেই এ ধরনের উপাদান অনলাইনে শেয়ার করেন, তখন অপরাধের পরিধি আরও অনেক বেড়ে যায়।
অভিনেত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, কাউকে সম্মান দেখাতে গেলে কি তবে তাকে নিজের পরিবারের কেউ হতে হবে? লাইক, কমেন্টস, শেয়ার বা আর্থিক লাভের জন্য অন্যের মানহানিকে আয়ের হাতিয়ার বানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
কনটেন্ট তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করা বা জীবনের সংগ্রামের বাস্তবতাকে সম্মান জানালেও, কাউকে অসম্মান করে পার পাওয়ার এই সংস্কৃতিকে তিনি চরম অনৈতিক বলে আখ্যায়িত করেন।
মেহজাবীন মনে করেন, এ ধরনের ডিজিটাল হয়রানি এখন আর শুধু নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গ বা গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যে কেউ চাইলেই ক্ষতিকর কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, আবার যেকোনো মুহূর্তে এর শিকারও হতে পারেন। তাই কেবল ভিডিও প্রস্তুতকারীই নন, বরং না বুঝে তা শেয়ার বা প্রচারকারী ব্যক্তিরাও সমানভাবে অপরাধের অংশীদার।
যেকোনো কনটেন্ট অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে প্রত্যেকের নিজের বিবেক, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন এই তারকা।
সান নিউজ / রাজীব