ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা কিংবা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরানের শাসকদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ কঠিন। তার ভাষ্য, ইরানি নেতৃত্ব দক্ষ আলোচক নয় এবং তারা কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
রুবিও আরও বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ধর্মীয় আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। সংঘাতের প্রথম দিন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে গত আট মাস ধরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। গত জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। তবে এসব উদ্যোগের কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন রুবিও। তিনি এ ধরনের হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে ইরানের কৌশলের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির সাবমেরিন হামলার তুলনা করেন তিনি।
রুবিও বলেন, ইরান প্রকাশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিরল ঘটনা। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেখানে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ঘালিবাফ জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে তেহরান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করতে ইরান রাজি নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
সান নিউজ/ রাব্বি