যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসন হত্যাকাণ্ডের মামলায় লুইজি মাঞ্জিওনির বিচার নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আদালতে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, হত্যা ও অনুসরণ করে হয়রানি করার অপরাধের আইনি সংজ্ঞা এবং উদ্দেশ্য আলাদা হওয়ায় একই অপরাধে দুবার বিচারের নিষেধাজ্ঞা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ম্যানহাটনের সরকারি আইনজীবীরা জানান, গত আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের করা অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন মাঞ্জিওনি। তবে এসব অভিযোগ এবং অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে অঙ্গরাজ্যের মামলায় তাঁর বিচার অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মাঞ্জিওনির আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ বাতিলের আবেদন করেছেন। তাঁদের যুক্তি, একই ঘটনার জন্য একাধিকবার বিচার করা আইনসম্মত নয়। গত আগস্টে মাঞ্জিওনি স্বীকার করেন, ব্রায়ান থম্পসনকে গুলি করার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার আলটুনা শহরের একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ থেকে মাঞ্জিওনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি নোটবুকের লেখা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে কিছু মানুষ মাঞ্জিওনির প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করেছেন।
গত আগস্টে কেন্দ্রীয় মামলায় অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর মাঞ্জিওনির আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিলের আবেদন জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনি লড়াই চলতে থাকায় অঙ্গরাজ্যের বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত পিছিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের বিচার সেপ্টেম্বরে এবং কেন্দ্রীয় মামলার বিচার ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল।
সরকারি আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরও আবেদন জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের কোনো অভিযোগ বাতিল করা হলেও তা যেন স্থায়ীভাবে বাতিল না করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মামলায় মাঞ্জিওনির দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত আপিলের মাধ্যমে বাতিল হলে, নতুন করে অভিযোগ আনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
এখন দুই পক্ষের আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আদালতে মাঞ্জিওনির বিচারপ্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি।
সান নিউজ/ রাব্বি