রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার সরাসরি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার সাফ কথা, কিয়েভের মসনদে এবার নতুন কোনো নেতৃত্ব আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে। মস্কোর সঙ্গে চলমান লড়াই থমকে দেওয়ার ব্যাপারে জেলেনস্কি যথেষ্ট আন্তরিক নন এবং তিনি কূটনৈতিক সুযোগগুলো হেলায় হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে চালানো ড্রোন বা সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করারও কড়া নির্দেশিকা দিয়েছেন মার্কিন প্রশাসন।
গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানান, পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর মোক্ষম সুযোগ বহুবার পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের পাল্টা আঘাতে রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে এবং খোদ আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্প্রতি একটি বিশেষ ফোনালাপ বা আলোচনার পর তেল ও ডিজেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের বোঝাপড়ার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে হওয়া এই চুক্তির আওতায় খুব দ্রুত তিন লক্ষ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
শুধু তাই নয়, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই আরও পাঁচ লক্ষ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য তেলের বাজার স্থিতিশীল ও সস্তা রাখাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে ব্যবহার করবে মস্কো।
কিয়েভের যুক্তি, এই মুহূর্তে পুতিনের অর্থনৈতিক শক্তির ওপর চাপ কমানো মানেই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী করে তোলা।
এরই মধ্যে যুদ্ধের বিভীষিকা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইউক্রেনের মাটিতে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া শহরে ভয়াবহ রুশ বিমান হামলায় অন্তত কুড়ি জন সাধারণ নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, এই বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারানো মানুষের মধ্যে তিনটি নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে।
এ ছাড়া হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতা নিয়ে ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের মধ্যকার মতপার্থক্য এখন আর পর্দার আড়ালে নেই, বরং তা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো মূল্যে শান্তি চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে এই যুদ্ধ থামানোর পক্ষে জোর দিলেও, ইউক্রেনের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।
কিয়েভের নীতি পরিষ্কার—রুশ হামলা অব্যাহত থাকলে তারা একতরফাভাবে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা পাল্টা আক্রমণ থামাবে না। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের পর ইউক্রেন সংকট নতুন কোনো কঠিন মোড়ের দিকে মোড় নিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সান নিউজ / রাজীব