বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। নদীর করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জামে মসজিদ। এ পরিস্থিতিতে নদীভাঙন থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেহেরগতি ইউনিয়নের চর সাধুকাঠি ফাজিল মাদ্রাসা থেকে উত্তর রাকুদিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ পর্যন্ত সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী এলাকায় হঠাৎ করেই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ গজ এলাকাজুড়ে নদীতীর ভেঙে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি পুরোনো বসতভিটা, কয়েক একর ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে, দেহেরগতি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশ থেকে আজহার ঢালী বাড়ি হয়ে ঘরামি বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে শতাধিক বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জামে মসজিদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নদীতীরে একের পর এক ধস নামায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে মানববন্ধন
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নদীভাঙন প্রতিরোধ ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল মতিন, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, আতিকুর রহমান সুমন, আনোয়ার হোসেন হেমায়েত, মজিবর মুন্সি, মো. রেজাউল হাওলাদার ও কাওসার মুন্সী।
বক্তারা বলেন, সুগন্ধা নদীর ভাঙনে এলাকার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নতুন করে নদীর পাড় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, নদীভাঙন শুধু বসতবাড়ি ও ফসলি জমির ক্ষতি করছে না, বরং এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্বাভাবিক চলাচলকেও হুমকির মুখে ফেলছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের জানমাল, বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রক্ষায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ ও প্রয়োজনীয় নদীতীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
সাননিউজ/বান্না