ক্রিকেটের বরপুত্র ও সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস পা রাখলেন জীবনের ৫১তম বছরে। ক্রিকেট বিশ্বে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছানো এই দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রিকেট মহলে বইছে শ্রদ্ধার জোয়ার। গত মে মাসে ক্রিকইনফোর এক বিশেষজ্ঞ জুরি প্যানেল—যেখানে ওয়াসিম আকরাম, গ্রেগ চ্যাপেল ও ম্যাথু হেদিনের মতো সাবেক তারকারা ছিলেন—ক্যালিসকে একবিংশ শতাব্দীর সেরা পুরুষ অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখেই ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় ক্রিকইনফোর জন্য একটি বিশেষ স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখেছিলেন।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে বিরল ভারসাম্য : রাহুল দ্রাবিড়ের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ হাজারেরও বেশি রান, ৬২টি সেঞ্চুরি এবং ৫০০-এর বেশি উইকেটের মালিক ক্যালিসের মতো সর্বময় প্রতিভা ক্রিকেটে খুব কমই দেখা গেছে। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে অলরাউন্ডাররা সাধারণত নিচের সারিতে ব্যাট করেন, সেখানে ক্যালিস দলের টপ অর্ডারে (৩ বা ৪ নম্বরে) ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং মেরুদণ্ড হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে পেস বোলিং বিভাগে প্রায় ৩০০ উইকেটের মালিক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকরী। দ্রাবিড় উল্লেখ করেছেন, ক্যালিস যদি এত ওপরে ব্যাটিং না করতেন, তবে ক্রিকেট বিশ্ব তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন পেসার হিসেবেও মনে রাখতে পারত।

মাঠে অন্তর্মুখী হলেও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী : আইপিএলের শুরুর দিকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে একসঙ্গে খেলার সুবাদে ক্যালিসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। রাহুলের মতে, মাঠের বাইরে ও মিতভাষী স্বভাবের ক্যালিস বেশ অন্তর্মুখী হলেও ড্রেসিংরুমে ছিলেন অত্যন্ত মিশুক। তবে জ্যাক ক্যালিসের অমায়িক আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকত এক অদম্য জেদ ও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী মনস্তত্ত্ব। সহজাত শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি নিজের স্কিল বাড়াতে তিনি নিয়মিত নিবিড় অনুশীলন করতেন। এমনকি আইপিএলের প্রথম মৌসুমের ব্যর্থতার পর ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি নিজেকে একজন আধুনিক টি-টোয়েন্টি ব্যাটার ও কার্যকর বোলার হিসেবে রূপান্তরিত করেছিলেন, যা জ্যাক ক্যালিসের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়।
নিখুঁত কৌশল ও অটুট মানসিকতা : ক্যালিসের বিপক্ষে খেলাকে এক দুর্দান্ত টেনিস তারকার মুখোমুখি হওয়ার সাথে তুলনা করেছেন দ্রাবিড়। দ্রাবিড়ের মতে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ এই ক্রিকেটারের খেলায় দৃশ্যমান কোনো দুর্বলতা ছিল না। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার গতি পরিবর্তন করার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল জ্যাকের। দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন উইকেটে ভারতীয় দলের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত সব ইনিংসের কথা স্মরণ করে দ্রাবিড় জানান, জ্যাক ক্যালিসকে আউট করতে বোলারদের শরীর ও মনের সব শক্তি নিংড়ে দিতে হতো।
টানা ১৮ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে রাজত্ব করা জ্যাক ক্যালিস প্রমাণ করেছেন উৎকর্ষ ও ধারাবাহিকতার আসল অর্থ। স্লিপে ফিল্ডিং করা থেকে শুরু করে ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে অমর করে রেখেছে।
সান নিউজ / রাজীব