খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারি ও জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি ও নানা দাবির জেরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দলটির বিরোধ চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সংবিধানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের অজুহাতে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তাদের এই লড়াই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক এই সংঘাত এড়াতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফজলুর রহমানের সব বিষয়ে ঐকমত্যও হয়েছিল এবং মন্ত্রিসভায় তা তোলার কথা ছিল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরকার নিজেদের এজেন্ডা বদলে ফেলায় সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।
অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কোনো অভিপ্রায় নেই বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী। তার মতে, প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতায় থেকেও খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি বা সেফ সিটি প্রকল্পের মতো জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফও খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, দীর্ঘ ১৩ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপশাসনের ফলেই প্রদেশটি আজকের এই সংকটে পড়েছে। পাঞ্জাবের সঙ্গে খাইবার পাখতুনখাওয়ার তুলনা টেনে তিনি বলেন, সমস্যার মূলে অর্থের অভাব নেই, বরং সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। কথার রাজনীতি বাদ দিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। পেশোয়ারে রাস্তাঘাট অবরোধের কারণে আগের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আজ থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন পেশোয়ারে আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তাঝুঁকি ও উত্তেজনার কারণে ডেরা ইসমাইল খান জেলার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ আজও স্থগিত রাখা হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব