<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/feed/international</id>
                                <link href="https://archive.en.sunnews24x7.com/feed/international"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews international Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest international News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Fri, 06 Nov 2026 09:05:53 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[তিন গ্রামে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, নিহত ৮]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119730" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119730</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক ঝলক : 


┃ তুরস্কে বন্দুকধারীর হামলা

┃ নিহত ............. ৮
┃ গুরুতর আহত ...... ১
┃ আক্রান্ত গ্রাম ... ৩টি
┃ এলাকা ............ আফিয়নকারাহিসার
┃ সন্দেহভাজন ...... লাল গাড়িতে পলায়ন
┃ অবস্থা ........... অভিযান চলছে


 

 

তুরস্কের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক তিনটি গ্রামে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও একজন। হামলার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় আকারের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো ঘটেছে আফিয়নকারাহিসার প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায়। রাজধানী আঙ্কারা ও উপকূলীয় নগরী ইজমিরের মাঝামাঝি অবস্থান করা এই অঞ্চলে এক সন্ধ্যায় ধারাবাহিকভাবে হামলার খবর আসতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থান থেকে হতাহতের তথ্য মিলতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়।

প্রাদেশিক প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের সংখ্যা আটজনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় আহত আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ইউকারিতান্দির এলাকায় রাস্তার পাশে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচাতে পারেননি। পরে পাশের কিয়ির গ্রাম থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের শরীরেও গুলির চিহ্ন ছিল।

এর কিছু সময় পর আরও পূর্বদিকে অবস্থিত আয়াজিনি গ্রাম থেকেও তিনজন নিহত হওয়ার খবর আসে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার উদ্দেশ্য এবং নিহতদের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে একই অঞ্চলের একাধিক গ্রামে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এই হামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। একটি লাল রঙের গাড়িতে করে তিনি এলাকা ত্যাগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ তার পিছু নেয় এবং বিভিন্ন সড়কে নজরদারি জোরদার করা হয়।

তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে আততায়ী এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার পর শান্ত গ্রামীণ জনপদগুলোতে নেমে এসেছে ভীতি ও অনিশ্চয়তা। স্বজন হারানোর শোকে ভারী হয়ে উঠেছে কয়েকটি পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। তদন্তকারীরা হামলার পেছনের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

তুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই বন্দুক হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সবার নজর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের দিকে, কারণ হামলার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 06 Nov 2026 09:05:53 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৪০০ মিলিয়নের চুক্তি ও আঞ্চলিক সামরিক জোটে যোগদানের পথে সিরিয়া!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119723" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119723</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে 

 


	
		
			
			খাতের বিবরণ
			
			
			অর্থনৈতিক বরাদ্দ ও সহযোগিতা
			
		
	
	
		
			
			স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠন
			
			
			১০০ মিলিয়ন ডলার (ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ)
			
		
		
			
			বেসামরিক প্রতিরক্ষা
			
			
			১০৫ মিলিয়ন ডলার (সক্ষমতা জোরদারকরণ)
			
		
		
			
			আলেপ্পো তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র
			
			
			৯০ মিলিয়ন ডলার (জ্বালানি সংকট নিরসন ও পুনর্বাসন)
			
		
		
			
			আবাসন খাতের সংস্কার
			
			
			৬০ মিলিয়ন ডলার
			
		
		
			
			সুপেয় পানির সরবরাহ
			
			
			৩০ মিলিয়ন ডলার (দামেস্ক ও ইদলিবে উন্নয়ন)
			
		
	


 

এক নজরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন:


	
	প্রতিরক্ষা চুক্তি: রিয়াদ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি পৃথক ও অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
	
	
	মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোটে (যেখানে এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা) সিরিয়ার যোগ দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে জোরালোভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
	
	
	আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতি: লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
	
	
	অর্থনৈতিক সমঝোতা: নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিল্প সহযোগিতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়েও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
	


 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় ও যুগান্তকারী মোড় নিয়েছে। গতকাল বুধবার রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ঐতিহাসিক উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এক বিশাল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ও চারশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের বহুমুখী অর্থায়ন প্যাকেজ।

দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত ও রক্তক্ষয়ের ক্ষত কাটিয়ে সিরিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশাল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

৪০৩ মিলিয়নের আর্থিক সহায়তা ও বহুমুখী পুনর্গঠন প্রকল্প :

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ, সৌদি উন্নয়ন তহবিলের উদার অর্থায়নে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বিভিন্ন খাতের আমূল পুনর্গঠন করা হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাখাতের ভেঙে পড়া কাঠামো ঠিক করতে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আবাসন সংস্কারে ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং দেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ জোরদার করতে ১০৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় করা হয়েছে।

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলেপ্পোর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্বাসনে রাখা হয়েছে ৯০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি দামেস্ক ও ইদলিবে লাখ লাখ মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বরাদ্দ করা হয়েছে আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার।

এই বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তার বাইরেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে জরুরি সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি আর্থিক পরিষেবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তরের মতো আধুনিক প্রকল্পগুলোও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তি ও নতুন আঞ্চলিক জোটে সিরিয়ার সম্ভাব্য যোগদান : 

এই সফরের সবচেয়ে বড় এবং চাঞ্চল্যকর অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গোপন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট আল-শারা, সৌদি যুবরাজ এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের ত্রিমুখী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই এই সামরিক চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।

যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট ধারা বা শর্তাবলি নিয়ে উভয় পক্ষই চরম গোপনীয়তা বজায় রেখেছে এবং বিস্তারিত প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে, তবুও সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে তাদের বর্তমান কূটনীতির সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে ঘোষণা করেছে।

শুধু দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয় দামেস্কের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত শক্তিশালী আঞ্চলিক সামরিক জোট&mdash;যা গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত &lsquo;মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি&rsquo; নামে পরিচিত&mdash;তাতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে সিরিয়া। ওই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ মানেই তিন দেশের সকলের ওপর সম্মিলিত আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

জোটে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়ার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্প্রতি বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ মানামা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, মক্কা জোটে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন ও আলোচনা চলছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে থাকা মিত্র দেশগুলোর প্রতি দামেস্কের এই স্পষ্ট সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব : 

বৈঠকের টেবিলে কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়েও গভীর আলোচনা করেছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার ডাক দিয়েছে রিয়াদ ও দামেস্ক।

নিরাপত্তা ও বিশাল অঙ্কের অর্থায়নের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে চিরস্থায়ী ভিত্তি দিতে শিল্প সহযোগিতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট আল-শারার এটি ছিল দ্বিতীয় রিয়াদ সফর।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর সৌদি যুবরাজের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যেখানে তিনি সৌদির প্রভাবশালী নেতাকে দামেস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। এই নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 05 Nov 2026 13:15:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় অহংকারী ট্রাম্পের, দাপট ডেমোক্র্যাটদের]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119704" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119704</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&zwj;সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এল এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের একরোখা নীতি, অহমিকা এবং একতরফা সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হলো বর্তমান মার্কিন রিপাবলিকান প্রশাসনকে। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত বহুকাঙ্ক্ষিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির।

বিরোধীদের প্রবল তোপের মুখে পড়ে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতাধর এই নেতার রাজনৈতিক সাম্রাজ্য এখন চরম সংকটের মুখে। নির্বাচনের ফলাফলের যে চিত্র সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে&mdash;যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের একনায়কসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমেই নিজেদের কড়া বার্তা শুনিয়ে দিয়েছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া, ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয় : 

নির্বাচনী ময়দানের প্রাথমিক ফলাফল এবং প্রবণতা বলছে, ১০০ আসনের মার্কিন সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ৫৪টি আসনে নিজেদের কব্জা করেছে। বিপরীতে, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি আটকে রয়েছে মাত্র ৪৪টিতে। অন্যদিকে, ৪৩৫ আসনের শক্তিশালী হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও বড় ধরণের ধস নেমেছে।

সেখানে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছে একরকম অপ্রতিরোধ্য গতিতে, ২৩১টি আসন নিজেদের ঝুলিতে ভরে তারা ইতোমধ্যেই স্পর্শ করেছে ম্যাজিক ফিগার। সেখানে মাত্র ১৩৯টি আসন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়েছে রিপাবলিকানরা। মার্কিন কংগ্রেসে এখন পুরোপুরিভাবে ডেমোক্র্যাটদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যদিও ট্রাম্পের মেয়াদের এখনও আরও প্রায় দুবছর বাকি রয়েছে, তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে হোয়াইট হাউসের এই ক্ষমতাধর নেতা এখন রীতিমতো নখদাঁতহীন বাঘে পরিণত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ভেনেজুয়েলা দখল, ইরানে আকস্মিক হামলা চালানো কিংবা একটুতেই ভারতসহ বিভিন্ন মিত্র দেশের ওপর অনৈতিক শুল্কের খড়্গ নামানোর মতো একরোখা নীতিই ডুবিয়েছে ট্রাম্পকে।

বিজয় উল্লাস ও রাজনৈতিক মহলের উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া : 

নির্বাচনেি এমন বিপর্যয়ের পর থেকেই গোটা মার্কিন মুলুকজুড়ে ডেমোক্র্যাট শিবির ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। উল্লাসের পাশাপাশি বিরোধীরাও বর্তমান প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়েননি।

মার্কিন মুলুকের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, বিভাজন ও বিভেদের নোংরা রাজনীতির জাল ছিঁড়ে আজ বেরিয়ে এসেছেন সচেতন মার্কিন নাগরিকরা। জনগণ এমন একজন অভিভাবক চায়, যিনি তাদের নিত্যদিনের সমস্যার একটি স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধান দিতে সক্ষম।

আজকের এই ঐতিহাসিক জয় তারই পরিষ্কার ইঙ্গিত।&rsquo; এদিকে ভারতে ট্রাম্পের &lsquo;বন্ধুত্বপূর্ণ&rsquo; তকমার অন্তরালে থাকা নীতির তীব্র সমালোচনা করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবিরও।


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক ঝলক : 


	
		
			
			বিষয়
			
			
			ফলাফল ও বিবরণ
			
		
	
	
		
			
			সেনেট ফলাফল (১০০ আসন)
			
			
			&bull; ডেমোক্র্যাট: ৫৪টি আসন

			 

			&bull; রিপাবলিকান (ট্রাম্পের দল): ৪৪টি আসন
			
		
		
			
			হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (৪৩৫ আসন)
			
			
			&bull; ডেমোক্র্যাট: ২৩১টি আসন (সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত)

			 

			&bull; রিপাবলিকান: ১৩৯টি আসন
			
		
		
			
			ভোটের মূল কারণ
			
			
			ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত, শুল্কনীতি, ইরানে হামলা এবং একরোখা শাসনপদ্ধতির প্রতি জনগণের ক্ষোভ
			
		
		
			
			ঐতিহাসিক জয় ও পরিবর্তন
			
			
			ক্যানসাসে ৯৪ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় এবং টেক্সাসসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য; সমকামী ও সংখ্যালঘু প্রার্থীর প্রথমবার জয়
			
		
		
			
			ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রভাব
			
			
			সুহাস সুব্রহ্মণ্যম, প্রমিলা জয়পাল, রো খান্না এবং পিয়া দান্ডিয়ার মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের কংগ্রেসে জোরালো উপস্থিতি
			
		
		
			
			দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রভাব
			
			
			ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কনীতি এবং রুশ তেল আমদানিসহ এইচ-১বি ভিসার খামখেয়ালিপনায় রাশ টানার সম্ভাবনা
			
		
	



তবে এমন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েও নিজের স্বভাবসুলভ অহংকার বজায় রেখেছেন মার্কিন ধনকুবের প্রেসিডেন্ট। পরাজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে দাবি করেছেন, &lsquo;ব্যালট পেপারে আমার নাম সরাসরি ছিল না।

যদি আমার নাম থাকত, তবে বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত ছিল।&rsquo; যদিও মুখে বিরোধী দলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেছেন, তবে একই সঙ্গে নিজের &lsquo;ভেটো&rsquo; ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে বিরোধীদের কঠোর হুঁশিয়ারিও দিতে ভোলেননি তিনি।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই ভরাডুবির সমস্ত দায় চাপিয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতির ওপর। দুপুরের দিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ট্রাম্পও নিজের সহকর্মীর এই অদ্ভুত যুক্তিকেই সমর্থন জানান।

ইতিহাসের ধারা বদল ও নজিরবিহীন জয় : 

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প-বিরোধী হাওয়ার তীব্রতা ঠিক কতটা জোরালো ছিল, তা প্রমাণ করে কন্সাসের মতো রাজ্যে দীর্ঘ ৯৪ বছরের হারের অভিশাপ ঘুচিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের ঐতিহাসিক সেনেট জয়।

এমনকি ১৯৯৪ সাল থেকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি বা দুর্গ হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও এবার বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, যেখান থেকে সেনেটর নির্বাচিত হয়েছেন জেমস টালারিকো।

শুধু তাই নয়, কেইশা বটমস এবং দেব হালান্ডের মতো প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু প্রার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সমকামী প্রার্থী হিসেবে ক্রিস পাপ্পাস মার্কিন মসনদে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের দাপট ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব : 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরাও। সুহাস সুব্রহ্মণ্যম, প্রমিলা জয়পাল, অমি বেরা ও রো খান্নার মতো হেভিওয়েটরা দাপটের সঙ্গে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

এমনকি প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিয়েছেন উদীয়মান ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া দান্ডিয়া। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পটপরিবর্তন ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা বা স্বস্তি মিলতে পারে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিতে।

শুধু তাই নয়, এইচ-১বি ভিসার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের খামখেয়ালি এবং কঠোর নীতিমালায় এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক রাশ টানবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 05 Nov 2026 10:29:34 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[থাইল্যান্ডের কারাগারে বন্দি দুই উইঘুর মুসলিমের আকুল আর্তি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119701" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119701</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে দুই উইঘুর মুসলিমের বর্তমান অবস্থা : 

 


	
		
			বিষয়
			বিবরণ
		
	
	
		
			
			সংকটগ্রস্ত ব্যক্তি
			
			
			থাইল্যান্ডে বন্দি থাকা দুই উইঘুর মুসলিম (যাদের একজনের বয়স আটকের সময় ১৪ বছর ছিল)
			
		
		
			
			বন্দিদশার মেয়াদ
			
			
			দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে (২০১৪ সাল থেকে থাই কর্তৃপক্ষের হেফাজতে)
			
		
		
			
			বর্তমান অবস্থান
			
			
			ব্যাংককের সুয়ান প্লু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার (সম্প্রতি কারাগার থেকে স্থানান্তরিত)
			
		
		
			
			প্রধান ঝুঁকি
			
			
			চীনে ফেরত পাঠানো হলে বলপূর্বক অন্তর্ধান, গুম এবং মারাত্মক নির্যাতনের চরম আশঙ্কা
			
		
		
			
			চীনা প্রশাসনের ভূমিকা
			
			
			গত আগস্টে ব্যাংককস্থ চীনা দূতাবাস তাদের হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে
			
		
		
			
			মানবাধিকার সংগঠনের দাবি
			
			
			হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)-এর পক্ষ থেকে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ করে নিরাপদ কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানোর আহ্বান
			
		
		
			
			আইনি অবস্থান ও বাধা
			
			
			বন্দিরা চীনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে লিখিত আপত্তি জানালেও, ইউএনএইচসিআর-এর প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করেছে থাই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ
			
		
	


 

 

 

প্রায় এক যুগ ধরে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তির আলো দেখেছিলেন দুই উইঘুর মুসলিম। কিন্তু সেই স্বস্তি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। বেইজিংয়ের হাতে সঁপে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে থাই কর্তৃপক্ষের কাছে জীবনভিক্ষা চেয়েছেন তারা। যেকোনো মূল্যে চীনমুখী প্রত্যাবাসন রোধে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তীব্র কূটনৈতিক ও মানবিক চাপ। একদিকে দুই উইঘুর মুসলিমের জীবন ঝুঁকির মুখে অন্যদিকে থাই কর্তৃপক্ষের ওপর প্রবল চাপ বেইজিংয়ের ।

দশকের পর দশক ধরে বন্দিদশা ও মুক্তির পেছনের শঙ্কা : 

ঘটনার শুরু প্রায় এক দশক আগের। ২০১৪ সালে ভাগ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমানোর পরই থাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই দুই উইঘুর নাগরিক। আটকের সময় তাদের একজনের বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর&mdash;কিশোর বয়সের দুরন্ত দিনগুলো যাদের কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর।

২০২০ সালের শুরুর দিকে ইমিগ্রেশন ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসার দুঃসাহসী এক প্রচেষ্টার জেরে তাদের ওপর নেমে আসে জেলখানার খড়্গ। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রায় পুরোটাই তাদের কাটাতে হয় কুখ্যাত কারাব্যবস্থার মাঝে।

সম্প্রতি রাজকীয় ক্ষমার সুবাদে কারাগার থেকে মুক্তি মিললেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত মেলেনি। গত একুশ অক্টোবর কারাগার থেকে সোজা ব্যাংককের সুয়ান প্লু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে তাদের। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোরালো দাবি, এই স্থানান্তরটি মূলত বেইজিংয়ের রক্তচক্ষুর কাছে নতি স্বীকার করে তাদের চীনে ফেরত পাঠানোর এক সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।

বেইজিংয়ের গোপন হাতছানি ও আন্তর্জাতিক মহলের চরম উদ্বেগ : 

উইঘুর দুই পুরুষকে যেকোনো মূল্যে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীনা প্রশাসন। গত আগস্ট মাসেই ব্যাংককস্থ চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংসদীয় কমিটির কাছে তাদের হাতে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জোরেশোরে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা এলেন পেয়ারসন থাইল্যান্ড সরকারের পূর্বের কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অতীতে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সরকার বেইজিংয়ের অযৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে বহু উইঘুরকে চীনে ফেরত পাঠিয়েছিল, যাদের পরবর্তীতে চিরতরে গুম বা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের প্রশাসনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, জোরপূর্বক এই মানবতাবিরোধী প্রত্যাবাসন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

একই সঙ্গে ওই দুই উইঘুর নাগরিককে তৃতীয় কোনো নিরাপদ দেশে পাড়ি জমানোর সুযোগ করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইনি লড়াই ও জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার নিয়ে ধোঁয়াশা : 

থাইল্যান্ডের বর্তমান কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, কোনো আটক ব্যক্তি যদি লিখিতভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিপরীতে আপত্তি না জানান এবং তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে না আসে, তবে তাদের বেইজিংয়ের খাঁচায় ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না।

তবে আশার কথা হলো, ভুক্তভোগী ওই দুই উইঘুরের আইনি প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে থাই প্রশাসনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা স্বেচ্ছায় তো দূরের কথা, জোর করলেও চীনে পা রাখতে রাজি নন।

নির্যাতন ও চরম নিপীড়নের ভয়ে তারা বারবার মৃত্যুর মুখে না পড়ার আকুতি জানাচ্ছেন। এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে থাই ইমিগ্রেশনের একগুঁয়ে আচরণ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধিরা বারবার ওই দুই উইঘুরের সঙ্গে দেখা করে তাদের শরণার্থী মর্যাদা যাচাই করার আবেদন জানালেও থাই কর্তৃপক্ষ তা শক্তহাতে প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।

থাইল্যান্ডের এই ডিটেনশন ক্যাম্পের চার দেয়ালের ভেতরে এখন এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয় ঘটার উপক্রম হয়েছে, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ববিবেক।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 05 Nov 2026 09:27:53 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ, ভারত , চীন পর্যন্ত যে ঝড় বইছে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119678" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119678</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার টেবিলে বসার দুই বছরের মাথায় এক ভয়ানক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্ব ভূগোলে যাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ এতদিন একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিল, সেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবার ব্যালট বাক্সে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন খোদ আমেরিকান নাগরিকেরা।

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ&mdash;সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস&mdash;উভয় জায়গাতেই রিপাবলিকান পার্টির চরম পরাজয় ট্রাম্পের ক্ষমতার ভিত্তি কাঁপিয়ে দিয়েছে। শুল্কের বেড়াজাল, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং হঠকারী সামরিক পদক্ষেপের যাঁতাকূপে পিষ্ট হওয়া সাধারণ ভোটারদের এই গণভোট বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ভোটের প্রাথমিক ফলাফল হাতে পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে তা মেনে নেওয়ার কথা বললেও, পরবর্তীতে &lsquo;ট্রুথ সোশ্যাল&rsquo; হ্যান্ডেলে লাল টুপি পরিহিত ছবির ওপর বড় করে &ldquo;ভেটো&rdquo; লিখে নিজের জেদ বজায় রেখেছেন।

এমনকি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, অভিবাসনের মতো কিছু ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করলেও যেকোনো &quot;অযৌক্তিক&quot; বিলে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে ভেটো প্রয়োগ করবেন। তবে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির সেই ক্যাপিটল হামলার অন্ধ আক্রোশের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে, কারণ এবার লড়াইটা ব্যালটের মারপ্যাঁচে খোদ হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে।

জনরোষের দাবানল: ট্রাম্পের রাজত্বে কেন এই ধস :

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প শিবিরকে খেসারত দিতে হয়েছে তাদের একের পর এক ভুল নীতির কারণে। ২০২০ সালের পর এটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। যে রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোকে &lsquo;রেড স্টেট&rsquo; বা নিজেদের সুনিরাপদ দুর্গ বলে মনে করা হতো, সেই রাজ্যগুলো থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ সমর্থকরা। এর পেছনে কাজ করেছে মূলত অর্থনৈতিক বিপর্যয়।

মুদ্রাস্ফীতির কষাঘাতে জর্জরিত আম জনতা&mdash;যাঁদের মধ্যে আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক থেকে শুরু করে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও রয়েছেন&mdash;বাজারের আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ডিম বা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীণ জনপদে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে লাগামছাড়া হয়েছিল, তা ট্রাম্পের পপুলারিটির মূলে আঘাত হেনেছে।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যে &ldquo;অন্তহীন যুদ্ধ&rdquo; বন্ধের ফুলঝুরি ফুটিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসার পরপরই তিনি নিজেই তার উল্টোটা করে বসেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে টার্গেট করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন এবং হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। ট্রাম্পের এই হঠকারী ও যুদ্ধংদেহী নীতি তার নিজস্ব &lsquo;MAGA&rsquo; (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকদেরও চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।

পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টের পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি স্ফীত হওয়ার অভিযোগও ভোটাররা সহজে হজম করেননি। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুক্তি, উপসাগরীয় অঞ্চলের নানা ফন্দিফিকির কিংবা পাকিস্তানে খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের মধ্য দিয়ে কেবল প্রথম বছরেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ২.২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের অন্দরে দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তার অমানবিক &lsquo;নাইস&rsquo; অভিযান এবং নির্বিচারে নারী-শিশুদের ঘরছাড়া করার নীতি আমেরিকান সমাজের বহুত্ববাদী কাঠামোর ওপর চরম আঘাত হেনেছিল।

চীন, কানাডা, মেক্সিকো কিংবা ভারতের ওপর নির্বিচারে শুল্ক বসানোর খেসারতও দিতে হয়েছে খোদ মার্কিন ভোক্তাদেরই, কারণ এই শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষের ঘাড়েই। বিচার বিভাগের কণ্ঠরোধ এবং জেফ্রি এপস্টেইনের কেলেঙ্কারির মতো নৈতিক স্খলনও ট্রাম্পের কফিন শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতি, ভারত এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব : 

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বিশাল ও বড় ধরনের মোড় নিতে চলেছে। বিশ্ববাসীর নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে:

মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের ভরাডুবি ও ডেমোক্র্যাটদের পুনরুত্থান বাংলাদেশের উদীয়মান তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে; একদিকে ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতির বিরোধিতায় ডেমোক্র্যাটরা সোচ্চার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঢাকার জন্য সুবিধাজনক দরকষাকষির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে মানবাধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রশ্নে মার্কিন কংগ্রেসে কড়া নজরদারি বজায় থাকায় ঢাকার নীতিনির্ধারকদের জন্য কূটনৈতিক সতর্কতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি : অভ্যন্তরীণ চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ঐতিহ্যগতভাবেই বিদেশনীতির মাঠে খড়্গহস্ত হন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এই বেপরোয়া মনোভাব আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের তহবিল আটকে দিয়ে তার ডানা ছাঁটার চেষ্টা করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ চলতে থাকলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।


আইনি জালে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা : ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার অর্থ হলো ট্রাম্প এবং তার ব্যবসায়ী পুঁজিপতি বন্ধুদের বিরুদ্ধে এবার শুরু হবে কড়া তদন্ত। ক্রিপ্টো লেনদেন, রিয়েল এস্টেট ডিল এবং খনিজ সম্পদ চুক্তিগুলোর ময়নাতদন্ত শুরু হলে এর আঁচ গিয়ে পড়বে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটা ভারতীয় বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপরও।


শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধ : ট্রাম্পের একচ্ছত্র শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বিশ্ববাজারকে দীর্ঘকাল ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। ওয়াশিংটন এখন তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থাকায় ভারত সরকার চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিজেদের দরকষাকষির চাল নতুন করে সাজানোর সুযোগ পাবে।

অভিবাসন ও ভিসানীতি : এইচ-১বি ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা বা ওপিটি নিয়ে চলা কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে অভিবাসী ও করপোরেট আমেরিকার পক্ষ থেকে যে প্রবল প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে, তা হোয়াইট হাউসকে বাধ্য করবে সুর নরম করতে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভারতীয়-আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের রাজনৈতিক উত্থান এই নীতিগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।


চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সমীকরণ : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ ছাপিয়ে আগামী দিনে বেইজিং ও মস্কোর প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, তা বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের গোপন বা প্রকাশ্য সমঝোতা আমেরিকার পুরনো মিত্রদের গভীর বিপদে ফেলতে পারে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি আধিপত্য : সেমিকন্ডাক্টর ও এআই ডেটা সেন্টার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেই প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় এআই আধিপত্যের মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এখন কী কৌশল নেয়, সেদিকেও বিশ্ববাসীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।


ভারতের মানবাধিকার নিয়ে টানাপোড়েন : মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সুশীল সমাজের ওপর সরকারের আচরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে কড়া নজরদারি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে এখন এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বেশ সূক্ষ্ম ও জটিল কূটনৈতিক বোঝাপড়ায় যেতে হবে।


উত্তরসূরিদের দৌড়ঝাঁপ :২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই ইতিমধ্যেই বেজে গেছে। রিপাবলিকান শিবিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এখন থেকেই ট্রাম্পের বিতর্কিত &lsquo;বোঝা&rsquo; থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল খুঁজছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবিরে বারাক ওবামার সহযোগিতায় তরুণ এক রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের মসনদে ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক বিপর্যয় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই ওলটপালট করে দেয়নি, বরং ঢাকা, দিল্লি থেকে শুরু করে গোটা পৃথিবীর ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ও প্রবল ঢেউ তুলে দিয়েছে। আগামী দুই বছর বিশ্ব কূটনীতির টেকিট কিবোর্ডে কোন নতুন চাল লেখা হবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা!

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 12:36:33 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মার্কিন কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচিত মুসলিম নারী লতিফা সাইমন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119677" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119677</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[
	
	দুর্দান্ত পুনর্নির্বাচন: ক্যালিফোর্নিয়ার ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজের মেয়াদ নিশ্চিত করলেন লতিফা সাইমন।
	
	
	ঐতিহাসিক কৃতিত্ব: জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসে নেতৃত্ব দিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন তিনি।
	
	
	জনকল্যাণমূলক সংগ্রাম: মানবাধিকার আন্দোলন, বিচার ব্যবস্থা সংস্কার এবং গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মূলধারার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই নেত্রী।
	


 

 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবন দিয়ে ফের এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করলেন বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেত্রী লতিফা সাইমন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন পাকা করে নিয়েছেন তিনি।

দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী জেমি জয়েসকে পেছনে ফেলে পাওয়া এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণী টেবিলে তার রাজনৈতিক যাত্রার আরও একটি নতুন দুই বছরের মেয়াদ নিশ্চিত হলো।

বত্রিশ লক্ষাধিক মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত ৪৯ বছর বয়সী এই নেত্রী এর আগেই মার্কিন কংগ্রেসে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন।

তবে তার চেয়েও বড় কথা হলো, জন্মগতভাবে সম্পূর্ণ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন জাতীয় আইনসভায় সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন। মানবাধিকার কর্মী, শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ পথচলা পেরিয়ে আজ তিনি আমেরিকার মূলধারার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের শক্ত অবস্থান পোক্ত করেছেন।

রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগীয় ও পরিবহন সংস্কারের দীক্ষা

১৯৭৭ সালের ২৯ জানুয়ারি সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া লতিফা সাইমনের জীবন শুরু হয়েছিল নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তবে নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনোই দুর্বলতা হিসেবে নেননি তিনি, বরং তা দিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও শাণিত করেছেন।


মিলস কলেজ থেকে জননীতিতে স্নাতক এবং সান ফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটি থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি কৈশোর থেকেই তিনি সামাজিক পরিবর্তনের দূত হয়ে ওঠেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে &lsquo;ইয়াং উইমেনস ফ্রিডম সেন্টার&rsquo;-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের পুনর্বাসনে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন তিনি।

তার যুগান্তকারী এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ &lsquo;ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ&rsquo; বা বিশ্বখ্যাত &lsquo;জিনিয়াস গ্র্যান্ট&rsquo;।

পরবর্তী সময়ে সান ফ্রান্সিসকোর তৎকালীন জেলা অ্যাটর্নি কমলা হ্যারিসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সুবাদে অপরাধ বিচারব্যবস্থায় এক বিশাল সংস্কার আনেন সাইমন। তরুণ অপরাধীদের কারাগারে না পাঠিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাদের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া &lsquo;ব্যাক অন ট্র্যাক&rsquo; কর্মসূচি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

এছাড়া সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া র&zwj;্যাপিড ট্রানজিট বা &lsquo;বার্ট&rsquo;-এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে গণপরিবহনে নিরাপত্তা এবং জনসেবার মান বৃদ্ধিতে তিনি যুগান্তকারী &lsquo;অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম&rsquo; চালু করেছিলেন।

কংগ্রেসে অনন্য ভূমিকা ও নিত্যনতুন অর্জনের মুকুট

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পা রেখে লতিফা সাইমন শুধু আইন প্রণয়নই করছেন না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও রাখছেন অনন্য অবদান। বর্তমানে তিনি কংগ্রেসের প্রভাবশালী ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম কমিটি এবং স্মল বিজনেস কমিটিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট পার্টির নীতি বিষয়ক ডেপুটি হুইপের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।

তার নির্বাচনী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুযোগ সম্প্রসারণে দ্বিদলীয় বিল পাস করানো থেকে শুরু করে জননিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোটি কোটি ডলারের কেন্দ্রীয় তহবিল নিশ্চিত করার পেছনে রয়েছে তার ক্লান্তিহীন পরিশ্রম।

সাশ্রয়ী আবাসন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে লতিফা সাইমন আজ মার্কিন রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ক্যালিফোর্নিয়ার আলামেডা, বার্কলি ও ওকল্যান্ডের মতো জনবহুল এলাকার সাত লাখেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মনের জোর ও জনকল্যাণের স্পৃহা থাকলে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই মানুষের সফলতার পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

এবারের এই পুনর্নির্বাচন কেবল তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি বিজয় নয়, বরং এটি মার্কিন কংগ্রেসে বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি এবং অদম্য নারীর শক্তির এক অবিসংবাদিত জয়।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 11:49:12 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তৎপর রয়েছে পাকিস্তান : শেহবাজ শরীফ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119676" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119676</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[
	
	শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
	
	
	মধ্যস্থতার মিশন: ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনায় সমঝোতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
	
	
	আঞ্চলিক কূটনীতি: সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।
	


 

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে তেলের এই আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পাকিস্তান সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যতই চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বাড়তি বোঝা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সক্রিয় কূটনীতি পাকিস্তানের : 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্মরণ করিয়ে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানসহ আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যকার &lsquo;মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট&rsquo; বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরান সফর করেছিলেন। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত সপ্তাহেও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই মধ্যস্থতা নিয়ে পাকিস্তান এখনো বেশ আশাবাদী।

সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারের অভিনব উদ্যোগ : 

দে0শের ভেতরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে সরকার।

এ বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক দেশের রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রিফাইনারিগুলো যাতে তাদের অতিরিক্ত বা উইন্ডফল প্রফিট (অপ্রত্যাশিত লাভ) থেকে এই বাড়তি চাপ কিছুটা সহ্য করে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে এই বাড়তি ব্যয়ের চাপে পিষ্ট হতে দেবে না।

পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে চালু হওয়া বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। এই প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন রুপি খরচ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা বা আইবি এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে মনিটর করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এলপিজি সিন্ডিকেট ও মাফিয়াতন্ত্রের অবসান : 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির বাজার নিয়ে বলতে গিয়ে শেহবাজ শরীফ বলেন, এলপিজি সেক্টরে একসময় যে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য ছিল, সেটির অবসান ঘটেছে। এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এলপিজি আমদানি করা হবে। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লটে লটে এগুলোর নিলাম হবে। এর মাধ্যমে সরকার যে লাভ করবে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে।

সামনে শীতকাল আসছে। এই শীতে এলপিজি, এলএনজি এবং পেট্রলের চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও সামুদ্রিক রুট বন্ধ থাকার কারণে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত পারাপারে কিছু বিঘ্ন ঘটছে এবং এলপিজির সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাস দমনে কঠোর হুশিয়ারি : 

বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও খাইবার পাখতুনখোওয়ার (কেপি) পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, কেপি প্রদেশের জন্য ১৬০ বিলিয়ন রুপির একটি বিশেষ উন্নয়ন ও সহায়তা প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ সময় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো সুরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা আমাদের কাছে এক নম্বর, দুই নম্বর এবং তিন নম্বর অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, খাইবার পাখতুনখোওয়ার নতুন সরকার এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে চলমান সন্ত্রাসবাদ চিরতরে নির্মূল করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 11:36:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফ্যাসিস্ট ট্রাম্পকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের ইতিহাস গড়লেন ইলহান ওমর!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119671" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119671</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[╔══════════════════════════════════════════════════════════════════════════╗
║  ইলহান ওমরের পঞ্চম জয় ও আইনি জটিলতা: এক নজরে  ║
╚══════════════════════════════════════════════════════════════════════════╝

🏆 [ নির্বাচনী বিজয় ]
&bull; মিনেসোটার পঞ্চম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করেছেন।
&bull; টানা পঞ্চমবারের মতো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন নিশ্চিত করলেন।
&bull; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন।

⚡ [ রাজনৈতিক বৈরিতা ]
&bull; সোমালি শরণার্থী ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
কঠোর সমালোচনা ও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

🔍 [ চলমান ফেডারেল তদন্ত ও আইনি প্যাঁচ ]
&bull; বাসভবনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI)-এর অভিযান।
&bull; মোবাইল, কম্পিউটার, পাসপোর্ট জব্দ এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ।
&bull; নাগরিকত্বের আবেদন ও অভিবাসন নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত।
&bull; আদালত নথিতে ভিন্ন নাম ও ২০০৯ সালের বিয়ের পদবি সংক্রান্ত জটিলতা।

──────────────────────────────────────────────────────────────────────────
💡 মূল বার্তা: ফেডারেল তদন্তের হুমকি ও ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণ উপেক্ষা করেই
মিনেসোটার ভোটাররা ইলহান ওমরের পক্ষে জোরালো রায় দিয়েছেন।
──────────────────────────────────────────────────────────────────────────

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ময়দানে ফের এক নাটকীয় ও তাক লাগা জয়ের নজির গড়লেন সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেত্রী ইলহান ওমর। রিপাবলিকান শিবিরের কঠোর চ্যালেঞ্জ এবং মাথার ওপর ঝুলন্ত গুরুতর কিছু ফেডারেল তদন্তের খাঁড়াকে পরোয়া না করেই তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

টানা পঞ্চমবারের মতো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন নিশ্চিত করলেন ইলহান ওমর।

ভোটের লড়াইয়ে নিজের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন নাগেলকে রীতিমতো ধরাশায়ী করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম শক্তিশালী এই ঘাঁটিতে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেন ইলহান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করে মার্কিন কংগ্রেসে পা রাখা ইলহান ওমর দেশটির ইতিহাসে প্রথম দুজন মুসলিম নারী আইনপ্রণেতার একজন হিসেবে শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে মিনিয়াপোলিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন তিনি।

আইনি জটিলতা ও ফেডারেল অভিযানের মাঝেই এই জয় : 

নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও ইলহান ওমরের জন্য স্বস্তির কোনো অবকাশ নেই, কারণ তার এই বিজয় এসেছে মারাত্মক সব আইনি ও রাজনৈতিক ঝড়ের ভেতর দিয়ে। শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া এই নেত্রী বরাবরই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আক্রমণ ও বর্ণবাদী সমালোচনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে এসেছেন। অতীতে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই তাকে নিজের জন্মভূমি সোমালিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে অতর্কিত হানা দেয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)-এর সদস্যরা। সেই অভিযানে আইনপ্রণেতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও পাসপোর্ট জব্দের পাশাপাশি তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

মূলত অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র ও মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি বা তার বাবা কোনো মিথ্যা তথ্য বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি এই তদন্তের অংশ হিসেবে তার বোন সাহরা নুরও সম্প্রতি ফেডারেল কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়েছেন।

পাশাপাশি আদালত-সংক্রান্ত নথিপত্রে তার নাম &lsquo;ইলহান ওমর নুর সাঈদ এলমি&rsquo; হিসেবে উল্লেখ করা এবং ২০০৯ সালের একটি বিয়ের সঙ্গে তার পদবির সংযোগ থাকায় আইনি প্যাঁচ আরও গভীর হয়েছে।

এতসব তদন্ত, জেরা এবং হোয়াইট হাউসের লাগাতার চাপের মুখেও মিনেসোটার সাধারণ ভোটারেরা ব্যালটের মাধ্যমে ইলহান ওমরের পাশেই থাকার পক্ষে জোরালো রায় দিয়েছেন।

সান নিউজ / রাজীব

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 10:21:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিনীরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে : ইরানের স্পিকার]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119669" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119669</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 


===========================================================================
                      মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬ 
                     (কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয়)
===========================================================================
                                   |
           +-----------------------+-----------------------+
           |                                               |
           v                                               v
 📉 [ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ]                     [ ইরানের প্রতিক্রিয়া ]
 &bull; লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি        &bull; স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
 &bull; উচ্চ শুল্কনীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি     জানান, মার্কিন জনগণ ব্যালটের
 &bull; ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতি              মাধ্যমে &quot;যুদ্ধ চাই না&quot; বলে রায় 
                                                দিয়েছেন।
           |                                               |
           +-----------------------+-----------------------+
                                   |
                                   v
 🎯 [ মূল ফলাফল ও বার্তা ]
 &bull; মার্কিন ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের নীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
 &bull; তেহরান মার্কিন জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।
===========================================================================


 

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নাটকীয় ও ভূমিধস বিজয়ের পর এমন প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান।

ফলাফল সরাসরি হোয়াইট হাউসের বর্তমান যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের স্পষ্ট বার্তা বলে দাবি করেছে তেহরান।

আজ বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই বিষয়ে খোলামাঠা মন্তব্য করেছেন। গালিবাফের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির নাগরিকেরা অত্যন্ত জোরালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনোভাবেই সংঘাত বা যুদ্ধ দেখতে চান না।

কংগ্রেসে ট্রাম্পের ভরাডুবি ও জনরোষের বিস্ফোরণ : 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি&rsquo;র বরাতে জানা গেছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে শোচনীয় পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বড় ব্যবধানে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতি আমেরিকানদের তীব্র ক্ষোভ ও আস্থাহীনতারই সরাসরি প্রতিফলন এই নির্বাচনী ফল।

বিশেষ করে, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, একরোখা শুল্কনীতি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সরাসরি যুদ্ধাবস্থা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

এর ফলেই জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই মার্কিন প্রশাসনের ওপর জনগণের পুঞ্জীভূত অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটে।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহ : 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত নিজের এক পোস্টে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণে হোক কিংবা নৈতিক বিবেকের তাড়নায় হোক&mdash;আমেরিকার সাধারণ মানুষ আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছে যে, তারা আর কোনো সংঘাত চায় না। মার্কিন জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে তেহরান পূর্ণ সমর্থন জানায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। যদিও দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সংঘাতটি বড় কোনো রূপ না নিয়ে এক ধরনের স্থবির বা অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, তবুও দুই পক্ষের মধ্যকার থেমে থেমে চলা হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে সর্বগ্রাসী যুদ্ধের পুনরুত্থানের কালো ছায়া তাড়া করে ফিরছে গোটা অঞ্চলকে।

মার্কিন কংগ্রেসের পটপরিবর্তন এবং তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 09:55:40 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মার্কিন সংসদের উচ্চকক্ষে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119661" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119661</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে: আবদুল আল&ndash;সাইদের ঐতিহাসিক সিনেট জয়


	
	ঐতিহাসিক মাইলফলক: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল&ndash;সাইদ।
	
	
	নির্বাচনী এলাকা: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য।
	
	
	নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: রিপাবলিকান পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী মাইক রজার্স।
	
	
	ব্যবধান: দুই লাখেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আল&ndash;সাইদ।
	
	
	প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা আল&ndash;সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল নীতি এবং প্রগতিশীল এজেন্ডাকে ইস্যু বানিয়ে তীব্র অপপ্রচার চালালেও মিশিগানের ভোটারেরা তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন।
	
	
	মূল বার্তা: নেতিবাচক ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক রাজনীতিকে পেছনে ফেলে মিশিগানের সাধারণ মানুষ প্রগতিশীলতা ও পরিবর্তনের পক্ষেই নিজেদের রায় দিয়েছেন।
	


 

 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী মাইক রজার্সকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল&ndash;সাইদ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পা রাখতে চলেছেন, যা এক যুগান্তকারী মাইলফলক।

নির্বাচনী লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নিজের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে দুই লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই প্রগতিশীল নেতা। গত নভেম্বরে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর থেকেই তার এই রাজনৈতিক যাত্রা আমেরিকান মূলধারার রাজনীতিতে দারুণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

ট্রাম্প শিবির ও রিপাবলিকানদের প্রবল প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে জয় : 

এই নির্বাচন কেবল দুই প্রার্থীর লড়াই ছিল না; বরং এটি রূপ নিয়েছিল এক আদর্শিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দানে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দলের শীর্ষস্থানীয় সহযোগীরা আল&ndash;সাইদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচারের ঝড় তুলেছিলেন।

ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করতে বারবার প্রচার চালানো হয়েছিল যে, আল&ndash;সাইদের মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েল সংঘাত বিষয়ক অবস্থান এবং তার প্রগতিশীল নীতিগুলো স্থানীয় জনপদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

রিপাবলিকান শিবিরের এমন আক্রমণাত্মক ও মেরুকরণের রাজনীতি ভোটারদের মাঝে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মিশিগানের সচেতন ভোটারেরা ট্রাম্প শিবিরের সেই নেতিবাচক প্রচারণায় কান দেননি। বরং প্রোপাগান্ডা ও ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

ঐতিহাসিক এই বিজয়ের তাৎপর্য : 

বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল আল&ndash;সাইদের এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। রক্ষণশীল ও তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের যুগে দাঁড়িয়ে একজন মুসলিম এবং প্রকাশ্য প্রগতিশীল প্রার্থীর এমন বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, আমেরিকার সাধারণ মানুষ ক্রমশ গোঁড়ামি ও নেতিবাচক প্রচারণার চেয়ে ভিন্ন মতের অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মঞ্চ তথা সিনেটে এই প্রথম কোনো মুসলিম নেতার প্রবেশ কেবল মিশিগানের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Nov 2026 09:09:23 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদের ঝড় থাইল্যান্ডে!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119638" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119638</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে থাইল্যান্ডে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

▶ মূল কারণ: স্থানীয় ব্যবসা দখল, অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং থাই সংস্কৃতির অবমাননা।

 

▶ প্রধান দাবি: ফুকেটে বিক্ষোভরত নেতারা ইসরায়েলিদের অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ১ মাস থেকে কমিয়ে ১৪ দিন করার এবং সব &#39;চাবাদ&#39; কেন্দ্র বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

 

▶ আলোচিত ঘটনা: তদন্তের সময় এক ইসরায়েলি পর্যটকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য&mdash; &ldquo;আপনারা কি জানেন না এটি ইসরায়েলি ভূখণ্ড?&rdquo;

 

▶ প্রশাসনের পদক্ষেপ: জালিয়াতির অভিযোগে থাই প্রধানমন্ত্রী চাবাদ প্রধানের নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন এবং দেশজুড়ে চাবাদ হাউসের ওপর কঠোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় দ্বীপ থাইল্যান্ডের ফুকেট যেন এক অদ্ভুত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। থাই নাগরিকদের ব্যবসা গ্রাস করা, স্থানীয় আইনকে থোড়াই কেয়ার করা এবং নিজ দেশের পরিমণ্ডলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগে ইসরায়েলি পর্যটকদের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

সপ্তাহান্তে ফুকেট দ্বীপের রাজপথগুলোতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, যা এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের নাড়া দিচ্ছে।

ফুকেটে &lsquo;নো ইসরায়েল&rsquo; হুংকার এবং ভিসার মেয়াদ হ্রাসের জোরালো দাবি : 

গতকাল সোমবার স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম &lsquo;দ্য নিউ আরব&rsquo;-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফুকেট দ্বীপে আয়োজিত &lsquo;নো ইসরায়েল- সেভ ফুকেট&rsquo; সম্বলিত বিশাল সব ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী মিডিয়া মোগল এবং সুপরিচিত &lsquo;ইয়েলো শার্ট&rsquo; আন্দোলনের শীর্ষ নেতা সোধি লিমথংকুল। তিনি সর্বসমক্ষে কঠোর অভিযোগ তুলছেন যে, ইসরায়েলি নাগরিকরা ফুকেটের স্থানীয় অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো কেবল নিজেদের দেশের পর্যটকদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করা এবং থাই অর্থনীতিকে বাইপাস করে নিজস্ব বলয় তৈরি করা।

একই দিন দ্বীপের অন্য একটি অংশে আরও একটি বড় প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন স্থানীয় নেতা সাইচোল নুচোট। তার কণ্ঠেও ছিল তীব্র অসন্তোষ। তিনি সরাসরি থাই সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন যে, যেসব ইসরায়েলি নাগরিক অতীতে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেছেন, তাদের সেই নাগরিকত্ব অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। 

শুধু তাই নয়, থাইল্যান্ডজুড়ে কার্যক্রম চালানো সবকটি &lsquo;চাবাদ&rsquo; প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ করারও জোর দাবি তুলেছেন তিনি।

বেআইনি ব্যবসা ও স্থানীয় সংস্কৃতির অবমাননার গুরুতর অভিযোগ : 

স্থানীয় প্রতিবাদী গোষ্ঠীগুলোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে ইসরায়েলিরা দীর্ঘদিন ধরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসছে। বৈধ কোনো লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তারা গোপনে নানা ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে। 

এমনকি বিদেশি মালিকানা সংক্রান্ত কঠোর আইন এবং বিধিমালাগুলো এড়ানোর কূটকৌশল হিসেবে তারা স্থানীয় থাই নাগরিকদের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করছে। পাশাপাশি থাই সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে ক্রমাগত অসম্মান করার মতো ঘটনাও ঘটিয়ে চলেছেন তারা।

গত জুলাই মাসে এই অসন্তোষ এক নতুন মাত্রা পায়, যখন থাই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা &lsquo;চাবাদ হাউস&rsquo; নামক ইহুদি কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ নজরদারি ও তদন্ত শুরু করেন। সেই তদন্তের সময় এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ ইসরায়েলি পর্যটক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং ঔদ্ধত্যের সুরে প্রশ্ন তোলে&mdash; &lsquo;আপনারা কি জানেন না এটি ইসরায়েলি ভূখণ্ড?&rsquo;

এই একটি মাত্র ঘটনা থাই প্রশাসনের টনক নড়াতে বাধ্য করে। এরপরই থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করে। পরবর্তীতে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে অন্তত নয়টি সন্দেহভাজন চাবাদ হাউসের লাইসেন্স, কার্যক্রম এবং সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ, নাগরিকত্ব বাতিল ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ফাঁস : 

তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দেশের চাবাদ প্রধান রাব্বাই ইউসেফ চাইম কান্টোরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। 

২০১৩ সালে তাকে থাই নাগরিকত্ব প্রদান করা হলেও, সাম্প্রতিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। থাই নাগরিকত্ব থাকার পরও তিনি অত্যন্ত গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্তত ১৬ বার অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন, যা দেশটির অভিবাসন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফলস্বরূপ, তার থাই নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই মনোরম দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে একটি অন্যতম শীর্ষ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা সেনাসেবা শেষ করার পর তরুণ প্রজন্মের বিশাল একটি অংশ অবসাদ কাটাতে থাইল্যান্ডে ছুটে আসেন।

তবে ২০২৩ সালের পর থেকে গাজা যুদ্ধ কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসরায়েলবিরোধী যে রাজনৈতিক স্রোত তৈরি হয়েছে, থাইল্যান্ডের বর্তমান আন্দোলনগুলো তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে। 

এখানে মূল ক্ষোভের কারণ হলো স্থানীয় পর্যটন বাজার পুরোপুরি গ্রাস করে নেওয়ার ইসরায়েলি প্রবণতা এবং জনজীবনের বহুমুখী সংকট। থাই প্রশাসন এখন এই জনরোষ কীভাবে সামাল দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 13:08:29 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে কোণঠাসা করে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাল]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119637" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119637</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা :


	
	মূল উদ্যোগ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষকে চাপে ফেলতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আসরে নেমেছে চীন।
	
	
	তেহরানের সঙ্গে বৈঠক: বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
	
	
	সংঘাতের জন্য দায়: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটের জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে বেইজিং; পাশাপাশি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
	
	
	বিশেষ দূতের সফর: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন।
	
	
	ওমানের ঐতিহাসিক সফর: ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান (সুলতান হাইথাম বিন তারিক) চীন সফর করলেন এবং তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
	
	
	গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, সাপ্লাই চেইন ও মুদ্রা বিনিময় চুক্তিসহ মোট ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে চীন ও ওমান।
	
	
	জ্বালানি ও কৌশলগত রুট: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
	
	
	আলোচনার তাগিদ: মধ্যপ্রাচ্যকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
	


 

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হুঙ্কার আর মধ্যপ্রাচ্যের পুড়তে থাকা বারুদের স্তূপে এবার সরাসরি আসরে নেমে পড়ল ড্রাগন। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক ময়দানে কিছুটা নীরব দর্শক হয়ে থাকার পর, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একহাত নিতে নতুন ছক কষেছে কমিউনিস্ট বেইজিং। বেইজিংয়ের নতুন চালে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব। 

তেলের রাজনীতি আর রণকৌশলের চালপ্যাঁচে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করল চীন। 

তেহরানের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং কঠোর বার্তা : 

গত কয়েকদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী ও থমথমে পরিস্থিতির মাঝে বেইজিংয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সরাসরি তেহরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে মুখোমুখি বসে সংঘাত থামানোর তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠকের মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট&mdash;এই আঞ্চলিক যুদ্ধ যেভাবে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে অস্ত্র নয়, একমাত্র আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি ফেরানো সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সর্বনাশা সঙ্কটের জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কাঠগড়ায় তুলে আসছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। শুধু তাই নয়, তেহরানের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ড নিরাপত্তার প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুনকে ইরান, ওমান ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনৈতিক সফরে পাঠানো হচ্ছে।

ওমানের সুলতানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং তেল কূটনীতির নতুন সমীকরণ : 

একদিকে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যদিকে কৌশলগতভাবে ওমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি সেরে ফেলল চীন। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পথচলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান পা রাখলেন বেইজিংয়ের মাটিতে। 

ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তা দিয়েছেন খোদ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের পথ সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি বাহক রুট হরমুজ প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থিত ওমান। 

এমন ভূ-কৌশলগত গুরুত্বকে মাথায় রেখেই বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি ও সাপ্লাই চেইনসহ প্রায় ১৪টি মেগা সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এমনকি একটি বিশাল মুদ্রা বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ভাঙার এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়েছে এই দুই দেশ। 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি তোলার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পরমাণু বা রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিশ্ব রাজনীতির নতুন মোড়, আমেরিকার একচ্ছত্র অধিকারে কি টান : 

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের এই হঠাৎ সক্রিয়তা কেবল সাধারণ কোনো কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক। একদিকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে রাখার কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসছে বেইজিং।

বিশ্বমঞ্চের এই প্রবল কূটনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে এবং আমেরিকা-ইসরায়েল অক্ষশক্তি কীভাবে এর পাল্টা জবাব দেবে, সেটাই এখন দেখার সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চকর অপেক্ষা!

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 12:39:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নেতানিয়াহুর মুখে এবার ‘জাতীয় সরকার’-এর বুলি, তবে শর্ত একটাই!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119632" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119632</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে নিজের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার এক বড় ইঙ্গিত দিলেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক জট কাটাতে তিনি এবার একটি &lsquo;বিস্তৃত জাতীয় সরকার&rsquo; গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে জোট শরিকদের নিয়ে দীর্ঘদিনের সমীকরণে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিললেও, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখার শর্তে তিনি এখনো পুরোপুরি অনড় রয়েছেন।

অবস্থান বদল নাকি নতুন রাজনৈতিক কৌশল : 

গত সপ্তাহের সোমবার নিজের ভেরিফাইড এক্স (অধুনা টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বিস্ফোরক পোস্টে নেতানিয়াহু এই সমঝোতার সুর চড়ান। অথচ এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত ২৮ অক্টোবর লিকুদ পার্টির অন্ধ ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কট্টর &lsquo;জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী জোট&rsquo; গড়ার বজ্রকঠিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হঠাৎ করে তার এই ভোলবদল ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিজের সাম্প্রতিক এই অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সাধারণ নাগরিকরা কখনোই এমন কোনো দুর্বল প্রশাসন দেখতে চায় না যা রা&rsquo;আম বা জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। 

ওইসব দলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

বিজয়ের দাবি ও সরকার গঠনের গোলকধাঁধা : 

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল &lsquo;লিকুদ পার্টি&rsquo; ২৭টি আসন জিতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে এই একক জয় সত্ত্বেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে তার দল। নেতানিয়াহু পন্থী জোটের ঝুলিতে মোটে ৫৩টি আসন এলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তারা বেশ দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, ইহুদি ও আরব দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে দেশটির সংসদীয় রাজনীতি এখন চরম উত্তাল।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, নির্বাচনের দিন থেকেই তারা সব পক্ষের জন্য বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। যে দলগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না, তাদের সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সর্বদলীয় ও শক্তিশালী সরকার গড়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধীেদের কড়া হুশিয়ারি ও নেতানিয়াহুর সামনে পাহাড়প্রমাণ বাধা : 

যদিও নেতানিয়াহু চাইছেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এক নতুন সমঝোতার রাজনীতি শুরু করতে, তবে তার এই পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। 

জায়েশার, বিয়াখাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং ইসরায়েল বেইতেনুর মতো প্রভাবশালী চারটি প্রধান জায়নবাদী বিরোধী দল ইতিমধ্যেই যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো মন্ত্রীসভায় তারা এক পা-ও ফেলবে না।

ফলে একদিকে আসন সংখ্যার জটিল অঙ্ক এবং অন্যদিকে বিরোধীদের অনড় মনোভাব&mdash;ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর অন্ধকারের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক চাণক্য বুদ্ধির জোরে নিজের তরি কূলে ভেড়াতে পারবেন, নাকি দীর্ঘ ক্ষমতার লড়াইয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হবে&mdash;সেটাই এখন দেখার বিষয়!

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 11:52:30 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মহাকাশ থেকে কৃত্রিম আলো কিনে নেওয়ার অবিশ্বাস্য যুগ আসছে!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119629" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119629</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে রিফ্লেক্ট অরবিটালের মহাকাশ প্রকল্প :


	
	মূল উদ্যোগ: মহাকাশে প্রকাণ্ড আয়না বসিয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়া এবং তা কেনাবেচা করা।
	
	
	সংস্থার নাম: ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা &lsquo;রিফ্লেক্ট অরবিটাল&rsquo; (Reflect Orbital)।
	
	
	রকেট উৎক্ষেপণ চুক্তি: এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ভারতের স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)-এর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
	
	
	আয়নার আকৃতি: পৃথিবীর লো অরবিটে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল আয়না স্থাপন করা হবে।
	
	
	পরিষেবা পাওয়ার উপায়: গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো এলাকায় আলো চাইলে, সেই অনুযায়ী আয়নার দিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
	
	
	প্রথম পরীক্ষা: ২০২৭ সালের মার্চের পরেই &lsquo;ইয়ারেন্ডিল-১&rsquo; নামের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রথম পরীক্ষাটি হবে, যা প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় আলো ফেলতে পারবে।
	
	
	ভবিষ্যতের লক্ষ্য: ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলির সম্মিলিত আলো চাঁদের আলোর সমান হবে।
	
	
	প্রধান চ্যালেঞ্জ: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসলের কারণে আলোর বিক্ষেপণ ঘটে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
	
	
	সুবিধা: সূর্য ডোবার পরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো।
	
	
	উদ্বেগ ও বিতর্ক: রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার নষ্ট হওয়া, জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায় বাধা এবং পরিবেশ ও নিশাচর প্রাণীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা তীব্র আপত্তি তুলেছেন।
	


 

কল্পবিজ্ঞানের কোনো থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য এখন বাস্তবায়নের পথে। দিনের আলো ফুরিয়ে যাওয়ার পর রাতের আঁধার ভেদ করে যদি আপনার ঘরের জানলায় এসে পড়ে কৃত্রিম রোদের ঝিলিক, তবে কেমন লাগবে? শুনতে অদ্ভুত বা রূপকথার মতো মনে হলেও, ঠিক এমনটাই ঘটতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চপ্রযুক্তি সংস্থা &lsquo;রিফ্লেক্ট অরবিটাল&rsquo;-এর হাত ধরে শুরু হতে চলেছে মহাকাশ থেকে সূর্যের আলো কেনাবেচার এক রোমহর্ষক ও বিতর্কিত অধ্যায়।

মহাকাশে বিশাল আয়না, কৃত্রিম আলোর চমক :

প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) স্থাপন করা হবে ১৮ মিটার লম্বা এবং ১৮ মিটার চওড়া প্রকাণ্ড কিছু মহাকাশীয় আয়না। এই জায়ান্ট আয়নাগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সূর্যের প্রতিফলিত রশ্মি ফেলে দেওয়া হবে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো অন্ধকার অঞ্চলে। ফলে রাতের বেলাতেও কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যের আলোর ছোঁয়া পাওয়া সম্ভব হবে।

সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের পরই এই প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে চলেছে। প্রাথমিক ধাপে &lsquo;ইয়ারেন্ডিল-১&rsquo; নামের একটি বিশেষ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কৃত্রিম রোদ ফেলার প্রস্তুতি চলছে।

কেন এই অভিনব আয়োজন : 

রিফ্লেক্ট অরবিটালের দাবি, এই প্রযুক্তির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে:

সৌরবিদ্যুতের বিপ্লব: সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে, যা শক্তির সংকট মেটাতে এক বিশাল ভূমিকা নিতে পারে।

বিপর্যয় মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজ: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কোনো এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেলে সেখানে দ্রুত কৃত্রিম আলো পৌঁছে দিয়ে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা যাবে।

গ্রাহকের মর্জি অনুযায়ী আলো: বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়ার আবেদন করতে পারবেন, এবং সেই অনুযায়ী আয়নার দিক পরিবর্তন করা হবে।

২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে প্রায় ৫০ হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এই সংস্থা। তাদের দাবি, এই স্যাটেলাইটগুলোর মিলিত প্রতিফলিত আলো চাঁদের আলোর সমতুল্য উজ্জ্বলতা তৈরি করতে পারবে।

পথের কাঁটা বায়ুমণ্ডল এবং আশঙ্কার মেঘ : 


তবে এই বর্ণাঢ্য পরিকল্পনার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ও পরিবেশগত ঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে নিচে নামে, তখন বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসলের কারণে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে আলো পুনরায় ওপরে প্রতিফলিত হয়ে এক জটিল বিক্ষেপণ তৈরি করতে পারে।

এর ফলে, আপনি যে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো চাইছেন, তার বাইরেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একটি কৃত্রিম আলোর আভা বা আচ্ছন্নতা তৈরি হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের তীব্র উদ্বেগ : 

এমন যুগান্তকারী আইডিয়া প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছেন বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এবং পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। তাদের প্রধান উদ্বেগগুলো হলো:

রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার নষ্ট: কৃত্রিম আলোর দাপটে রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার চিরতরে হারিয়ে যাবে, যা নিশাচর প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনচক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে বাধা: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং মহাকাশ পর্যবেক্ষণের কাজে এই অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো গভীর বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে।

গত জুলাই মাসে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন পেলেও, এই প্রকল্পের নৈতিকতা ও পরিবেশগত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। মানুষের বিলাসবহুল সুবিধার জন্য প্রকৃতির সবচেয়ে প্রাচীন নিয়মে হস্তক্ষেপ করা কি আদতে বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নাকি এর চড়া মূল্য চুকাতে হবে পুরো পৃথিবীকে? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 11:36:46 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গেরুয়া শিবিরের চরম ব্যর্থতা তুলে ধরে পরিবর্তনের ডাক কংগ্রেসের!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119627" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119627</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

 

 

 

 

 

 

 

 

এক নজরে মণিপুর সংকট ও কংগ্রেসের অবস্থান 


	
	মূল অভিযুক্ত: মণিপুরের দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ সহিংসতার জন্য সরাসরি বিজেপি সরকারের চরম উদাসীনতা, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে কংগ্রেস।
	
	
	দলের শীর্ষ বৈঠক: গত সোমবার দিল্লির কংগ্রেস সদর দপ্তরে মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে মণিপুর সংকট নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
	
	
	রাজনৈতিক পালাবদল: উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে স্থায়ী শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হটিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা।
	
	
	উত্তপ্ত বর্তমান পরিস্থিতি: সাম্প্রতিক সময়ে কাংপোকপিতে রাস্তা অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ এবং সেনাপতি জেলায় দুই যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও বেশি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
	
	
	প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ: কুকি-নাগা এবং মেইতেই-কুকি সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অর্ধশতাধিক মানুষ নিখোঁজ এবং বহু জনপদ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে।
	
	
	&#39;ইন্ডিয়া&#39; জোটের হুংকার: লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে বিরোধী জোটের নেতারা বলেছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক দলকে উৎখাত করতে প্রস্তুত সাধারণ মানুষ।
	


 

উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী রণক্ষেত্র মণিপুরে দীর্ঘায়িত অশান্তি এবং লাগাতার রক্তপাতের পেছনে পুরোপুরি শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চরম উদাসীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য এবং দায়সারা মনোভাবের কারণেই পাহাড় ও উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মণিপুরের মাটি থেকে ব্যর্থ সরকারের মূলোচ্ছেদ করে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করার হুংকার দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

রাজধানীর দরবারে মণিপুর নিয়ে জরুরি তলব ও তীব্র ক্ষোভ : 

গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে মণিপুরের ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকট ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে একপ্রস্থ চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়।

সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল, মণিপুর বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সপ্তগিরি উলকা, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ইবোবি সিং এবং পরিষদীয় দলের প্রধান কে মেঘচন্দ্রসহ অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারা।

বৈঠক শেষে মল্লিকার্জুন খাড়গে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার খেসারত দিচ্ছে মণিপুরের সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চোখ বন্ধ করে বসে আছে।

উত্তর-পূর্বের এমন স্পর্শকাতর রাজ্যে স্থায়ী শান্তি, হারানো গৌরব এবং ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির অপশাসনের অবসান ঘটানোই এখন তাদের প্রধান এজেন্ডা বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

পাহাড়ে লাশের মিছিলে উত্তাল উপত্যকা, ফের চরমে অবনতি : 

রাজনৈতিক নেতাদের কথার লড়াইয়ের বাইরেও মাটির বাস্তবের চিত্রটি আরও ভয়াবহ। গত কয়েক দিনে কাংপোকপি জেলায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, বড় বড় কাঠের গুঁড়ি ও পাথর ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দেয়।

অন্যদিকে, সংবেদনশীল সেনাপতি জেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই তরুণের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের শুরু অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া নতুন দাঙ্গায় ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। তামেংলং, নোনে, কামজং, উখরুল ও কাংপোকপি অঞ্চলের একের পর এক জনপদ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে তিন শতাধিক তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, প্রায় অর্ধশত মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছে।

&#39;ইন্ডিয়া&#39; জোটের হুংকার ও উত্তরাখণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তোপ : 

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়েছেন। সম্প্রতি রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট &lsquo;ইন্ডিয়া&rsquo;র বিশাল জনসমাবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে পরিবর্তনের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে।

বিগত লোকসভা নির্বাচনেই মণিপুরের দুই আসনে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যের জনতা তাদের রায় স্পষ্ট করে দিয়েছিল, আর বিধানসভাতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে।

এদিন উত্তরাখণ্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই কংগ্রেস নেতা। তার অভিযোগ, পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলোকে দুর্নীতির করাল গ্রাসে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের সবুজ প্রাকৃতিক সম্পদ নির্বিচারে বৃহৎ করপোরেট পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ভূত ছাড়াতে নির্বাচনী ছক কংগ্রেসের :

মণিপুরের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চাইছে হাত শিবির।

মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভকে সংগঠিত করে শান্তি ও পুনর্মিলনের বার্তা নিয়ে বিজেপি হঠাও স্লোগানকে সামনে রেখে ময়দানে নামার সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। এখন দেখার বিষয়, উত্তপ্ত মণিপুরের জনতা ব্যালটের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক শক্তির হাতে তাদের ভাগ্য সঁপে দেয়।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 10:52:34 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119618" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119618</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দক্ষিণ ভারতের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ভয়াবহ আঘাত হেনেছে সাইক্লোন &lsquo;মুরাসু&rsquo; । আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মাঝামাঝি এলাকায় সাইক্লোনটি উপকূল অতিক্রম করেছে।

দক্ষিণ ভারতের আরেকটি রাজ্য ওডিশার কিছু স্থানে হাল্কা আঘাত হেনেছে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে ঝড়টি প্রবল আকারে আঘাত করেছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে , এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলে তেমন প্রভাব পড়েনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে ।

দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ১২ থেকে ১৪ ঘন্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ পরিস্থিতিতে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চেন্নাইয়ের স্কুলগুলো, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় &lsquo;মুরাসু&rsquo;র প্রভাবে চেন্নাই, বিজয়ওয়াড়া ও অমরাবতী বিমানবন্দরে মোট ৩০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে চেন্নাই বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার ১১টি এবং বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দরের ১৯টি ফ্লাইট রয়েছে।
 

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 03 Nov 2026 09:05:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119583" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119583</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

🎯 এক নজরে তেল বাজার ও কূটনীতি

&diams; মূল পতন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমায় একদিনেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

&diams; বর্তমান দর: ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৬.৫০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৭.৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।

&diams; ইরানের শর্ত: মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সচল করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

&diams; ট্রাম্পের অবস্থান: এখনই বড় কোনো সামরিক হামলা নয়, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

&diams; ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত: বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামী ডিসেম্বরেও তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে আগের পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।

 

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার চরম আতঙ্ক কাটিয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে তেলের বাজার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নে নেমে এসেছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী দুপুরের দিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬.৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৬.৫০ ডলারে এসে ঠেকেছে।

পাশাপাশি, মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর প্রতি ব্যারেলে ৬.২৫ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে থিতু হয়েছে ৯৭.৮৭ ডলারে।

দোহার মধ্যস্থতা ও হরমুজ প্রণালির নতুন সমীকরণ : 

ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটের ইতি টানতে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার এই মহতী উদ্যোগে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের শরণাপন্ন হয়ে ওয়াশিংটনের দরবারে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দোহা সফর সম্পন্ন করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত সমস্ত সামরিক ও নৌ নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার শর্তের সঙ্গেই কেবল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি জড়িত।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাল ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের নেপথ্য কাহিনী : 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী কোনো সামরিক হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি শান্তির পথে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।

এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে সবসময়ই কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজাটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং এ মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ তিনি দেননি।

ওপেক প্লাসের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও বাজারের বর্তমান চিত্র : 

বিশ্ববাজার যখন তেলের এই বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গতকাল রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছিল তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি শীর্ষ সদস্য রাষ্ট্র। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ডিসেম্বর মাসেও জ্বালানি তেল উত্তোলনের মাত্রা বাড়ানো হবে না; বরং তা আগের নির্দিষ্ট পর্যায়েই বহাল রাখা হবে।

এর ফলে গত অক্টোবর মাস থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির যে স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল, তা আরও এক মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হলো, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক নতুন স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করছে।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 02 Nov 2026 18:19:20 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মার্কিন অনিশ্চয়তায় অভূতপূর্ব প্রতিরক্ষা মৈত্রীতে আবদ্ধ ভারত ও অস্ট্রেলিয়া!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119579" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119579</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক নজরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা মৈত্রী ও কৌশলগত সহযোগিতা


	
	নতুন মোড় : ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
	
	
	মূল ক্ষেত্রসমূহ : সামুদ্রিক ও সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন।
	
	
	ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিপরীত মেরুতে অবস্থান, পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তৈরি হওয়া দূরত্ব এবং অভিবাসন নীতির বাধার পেরিয়ে বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকে দুই দেশের সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা আসতে শুরু করে।
	
	
	কাছাকাছি আসার মূল কারণ : ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন, সাইবার হুমকি, সীমান্ত সংঘাত (যেমন গালওয়ান সংঘাত) এবং মার্কিন নীতিতে তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা।
	
	
	সামরিক মহড়ার বিস্তৃতি : ২০২০ সালের &#39;সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারি&#39; চুক্তির পর থেকে যৌথ সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দুই দেশ ১৪টি দ্বিপক্ষীয় এবং ৬৪টি ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
	
	
	প্রধান যৌথ মহড়াসমূহ: নৌবাহিনীর &#39;অসইন্ডেক্স&#39; (AUSINDEX)-এ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ এবং স্থলবাহিনীর &#39;অস্ত্রাহিন্দ&#39; (ASTRAHIND)-এ ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধ কৌশলের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
	
	
	বর্তমান বাধা ও চ্যালেঞ্জ : নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি, মার্কিন রপ্তানি নীতির কারণে সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণে জটিলতা এবং সেনাসদস্যদের দ্রুত ভিসা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা।
	
	
	আগামীর সম্ভাবনা : ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি, সাঁজোয়া যান ও চালকবিহীন ডুবোযান (UUV) যৌথভাবে তৈরি এবং পি-৮ নজরদারি বিমানের পারস্পরিক ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তিশালী অংশীদারি গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে।
	





বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চলমান পালাবদলে দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ ঐতিহাসিক দূরত্ব এবং শীতল যুদ্ধকালীন নানা জটিলতা পেছনে ফেলে সময়ের বিবর্তনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই বন্ধুরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারির ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী সমঝোতা হয়েছে, তা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন এবং ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতিতে সৃষ্ট ধারাবাহিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই দুই আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করতে এক অবিচ্ছেদ্য জোটে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহাসিক দূরত্ব থেকে কৌশলগত মেলবন্ধন, দীর্ঘ পথচলার পেছনের গল্প :

একসময় ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের পারদ বেশ নিম্নমুখী ছিল। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তপ্ত দিনগুলোতে ক্যানবেরা দৃঢ়ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বলয়ে যুক্ত থাকলেও নয়াদিল্লি তৎকালীন জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বজায় রেখে পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সান্নিধ্যে আসে। সেই উত্তাল সময়ে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা যোগাযোগ ভারতের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

তাছাড়া ভারতের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন কঠোর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নয়াদিল্লির সামরিক সহযোগিতার পথ চিরতরে রুদ্ধপ্রায় হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন বর্ণবাদী অভিবাসন নীতি বা &#39;হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া&#39; পলিসির কারণে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগও ছিল অত্যন্ত সীমিত।

তবে ইতিহাসের সেই বরফ গলতে শুরু করে নতুন শতাব্দীর সূচনালগ্নে। ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ডের দিল্লি সফরের হাত ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন গতি আসে। ২০০৪ সালের প্রলয়ঙ্করী সুনামির পরবর্তী সময়ে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম ইন্দো-প্যাসিফিক কূটনীতিতে নতুন আশার আলো দেখায়।

যদিও ২০০৭ সালের কোয়াড সংলাপ এবং মালাবার নৌ-মহড়ার মতো ঐতিহাসিক মাইলফলকের পর ভূ-রাজনৈতিক নানা জটিলতা ও ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাময়িক প্রত্যাহার এবং সে দেশে কিছু অনভিপ্রেত জাতিগত ঘটনার কারণে সম্পর্ক সাময়িকভাবে হোঁচট খেয়েছিল, তবুও দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা সহযোগিতার বিকল্প পথ খুঁজতে পিছপা হননি।

বেইজিংয়ের আগ্রাসী কূটনীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থিরতা, যে কারণে মৈত্রী অনিবার্য : 

পরবর্তী সময়ে চীন সাগরে বেইজিংয়ের বেপরোয়া সামরিক তৎপরতা, সাইবার জগতের নানা আক্রমণ এবং ২০১৭ সালের হিমালয়ের ডোকলাম সীমান্তে ভারত-চীন মুখোমুখি সামরিক উত্তেজনার ফলে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের বোধোদয় ত্বরান্বিত হয়। এরপর ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা নয়াদিল্লিকে সম্পূর্ণ নতুন এক কৌশলগত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও সাইবার হামলার জেরে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সম্পর্কেও ফাটল ধরে।

ঠিক এমন স্পর্শকাতর সময়ে হোয়াইট হাউসের নীতিমালায় বারবার পরিবর্তন এবং মার্কিন নেতৃত্বের দূরদর্শিতা নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কা দুই দেশের সামরিক নীতিনির্ধারকদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি কিংবা অকাস (AUKUS) চুক্তির পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও ক্যানবেরা একে অপরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে বাধ্য হয়।

সামরিক মহড়ার মহোৎসব ও যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির জয়যাত্রা : 

গত কয়েক বছরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং যৌথ মহড়ার পরিধি বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের ঐতিহাসিক &#39;সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারি&#39; চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে।

২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, দুই দেশের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ১৪টি দ্বিপক্ষীয় এবং ৬৪টিরও বেশি ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় মহড়ায় অংশ নিয়েছে, যা তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক আস্থার প্রতীক।

নৌবাহিনীর বার্ষিক &#39;অসইন্ডেক্স&#39; (AUSINDEX) মহড়ায় সাবমেরিন ধ্বংস করার অত্যাধুনিক কৌশল থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমানের নিখুঁত ব্যবহার নিয়মিত ঝালাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলবাহিনীর &#39;অস্ত্রাহিন্দ&#39; (ASTRAHIND) মহড়ায় আধুনিক ড্রোনের ব্যবহার এবং শত্রু ড্রোন প্রতিহত করার অভিনব ও মারকাটারি কৌশল এখন প্রধান ফোকাস। ২০২৬ সালের নির্ধারিত মহড়াগুলোতে উভচর যুদ্ধ পরিচালনা এবং জটিল উপকূলীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর বাইরে ২০২৪ সালে আকাশপথে চলমান যুদ্ধবিমানে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জটিল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় দুই দেশের বিমানবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বাস্তবতার কণ্টাকাকীর্ণ পথ ও যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তির পথে যেসব বাধা : 

দৃশ্যমান বিপুল সম্ভাবনার পরেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার এই অংশীদারির পথে বেশ কিছু কাঠামোগত এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও কাঁটার মতো বিঁধে আছে। দুই দেশের সামরিক কাঠামোর ভেতরে নিখুঁত সমন্বয়ের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি ও স্পর্শকাতর যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সামরিক হার্ডওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণে নানামুখী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সহযোগিতার গতি কিছুটা হলেও মন্থর করে দিচ্ছে।

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় ভারতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে ডেটা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া ওয়াশিংটনের কঠোর সব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের বেড়াজালে পড়ে মার্কিন নির্মিত সামরিক বিমানের জরুরি খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও দ্রুত মেরামতের কাজও অনেক সময় থমকে যায়।

সবচেয়ে বড় কথা, দুই দেশের সেনাসদস্য, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের যৌথ মহড়া বা গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় ভিসা দ্রুত প্রাপ্তির পথটি এখনো যথেষ্ট জটিল ও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ।

ইন্দো-প্যাসিফিকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে যে উদ্যোগগুলো : 

বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই দুই শক্তিকে অচিরেই বর্তমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক চাহিদা মেটাতে দুই দেশের প্রতিরক্ষাবিদেরা এখন যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পি-৮ গোয়েন্দা নজরদারি বিমানের পারস্পরিক ও যৌথ ব্যবহার, এবং সাবমেরিন ও ভারী নৌযান মেরামতে একে অপরের ডকইয়ার্ড ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করার প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে ড্রোন প্রতিহত করার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী সাঁজোয়া যান এবং চালকবিহীন সাবমার্সিবল বা ডুবোযান (UUV) তৈরিতে যৌথ গবেষণাগার গড়ে তোলার মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং অপ্রতিরোধ্য অক্ষ গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে।

 

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 02 Nov 2026 15:17:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বর্ণিল মিছিল, আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রদর্শন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119574" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119574</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গতকাল রোববার কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামলীলা ময়দানে যাওয়ার পথে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বর্ণিল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রঙিন পতাকার পাশাপাশি মিছিলে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষ তাদের নিজ নিজ রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।

ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের আদিবাসীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঢাকঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে গান গাইতে গাইতে মিছিলে অংশ নেন।

ছত্তিশগড়ের নেতা রামনারায়ণ সিং রাঠিয়া জানান, এসব আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ আগেই দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা দিল্লির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখেছেন। তাঁদের অধিকাংশের জন্যই এটি ছিল দিল্লিতে প্রথম আসা।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আয়োজিত &lsquo;ইন্ডিয়া&rsquo; জোটের এই সমাবেশ সফল করতে কংগ্রেস যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে, তা মিছিলের আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতেই স্পষ্ট হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি রাজ্যের দলীয় নেতৃত্বকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলের বিভিন্ন শাখাকেও সক্রিয় করে তোলে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

দীর্ঘদিন পর এই সমাবেশে কংগ্রেস সেবাদলের সক্রিয় উপস্থিতিও চোখে পড়ে। &lsquo;ইন্ডিয়া&rsquo; জোট ভবিষ্যতে বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের জনসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে যে দল সাংগঠনিকভাবে বেশি শক্তিশালী, সেই দলই সমাবেশ আয়োজনের প্রধান দায়িত্ব পালন করবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের ওপর।


সান নিউজ / সুরাইয়া]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 02 Nov 2026 09:23:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফ্যাসিস্ট মোদির হাত থেকে ভারতকে রক্ষা করতে হবে : এম এ বেবি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119554" />
            <id>https://archive.en.sunnews24x7.com/news/article/international/119554</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[
📰 এক নজরে: রামলীলা ময়দানে বামেদের মহা-সমাবেশ ও &lsquo;দ্বিতীয় স্বাধীনতা&rsquo;র ডাক


	
	মূল বার্তা: দেশের সংবিধানকে বদলে &lsquo;মনুবাদী সংবিধান&rsquo; কায়েমের চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে &lsquo;দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম&rsquo; গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম) ও বামপন্থী দলগুলো।
	
	
	সরকারের বাধা ও বিজেপির আক্রমণ: দিওয়ালির অজুহাতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রচার এবং পুলিশি কড়াকড়ির পাশাপাশি বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা অভিযোগ করেন যে বিরোধীরা দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
	
	
	ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ: ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
	
	
	বক্তাদের হুংকার: সমাবেশে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি মোদী সরকারকে &lsquo;অসত্যের মহারাজা&rsquo; আখ্যা দেন এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য নেতারা ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াই দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
	





ভারতের গণতান্ত্রিক মূলভিত্তি এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে ধ্বংস করে দেশে একচ্ছত্র &lsquo;মনুবাদী শাসন&rsquo; কায়েমের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দেশটির বামশিবির।

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল ও জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য তথা বিশিষ্ট নেতা এম এ বেবি। 

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে &lsquo;দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম&rsquo;-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ফ্যাসিবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে বামপন্থীরা রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

রামলীলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দিওয়ালি বয়কটের সরকারি বাধা উপেক্ষা করে লাখো মানুষের জনস্রোত : 

আজ রোববার ১ নভেম্বর দিল্লির বুকে বিরোধী জোটের এই মহা-সমাবেশ প্রতিহত করতে শাসক দলের পক্ষ থেকে নানামুখী কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধীদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে একযোগে ময়দানে নামে বিজেপি। 

বিশেষ করে দিওয়ালির উৎসবের মরশুমে এই সমাবেশের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে&mdash;এমন বার্তা প্রচার করা হয়। এমনকি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সুকৌশলে রামলীলা ময়দান সংলগ্ন এলাকার অসংখ্য দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে আসরে নামানো হয় শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে।

তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন যে, বিরোধীরা দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং এর নেপথ্যে কোনো না কোনো বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে।

তবে শাসক শিবিরের এসব রাজনৈতিক চাপ, পুলিশের কড়াকড়ি এবং প্রচারের সমস্ত কৌশলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রোববার ভোরে রামলীলা ময়দান অভিমুখে নেমে আসে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল। সাধারণ মানুষের শাণিত স্লোগান ও প্রতিবাদের ঝড়ে নিমিষেই ফিকে হয়ে যায় ক্ষমতাসীনদের সমস্ত বাধা। প্রসঙ্গত, রামলীলা ময়দানের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। 

অতীতে মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব বিআর আম্বেদকর এবং বল্লভভাই প্যাটেলের মতো মহান জাতীয় নেতারা এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত মাটিতে দাঁড়িয়ে বাম নেতারা আজকের এই আন্দোলনকে নতুন এক স্বাধীনতার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটাসহ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির তীব্র ভর্ৎসনা : 

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে (আরএসএস) একহাত নেন। তার অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়ালে রেখে ফ্যাসিবাদী পন্থায় দেশ শাসন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা এ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া, সাধারণ মানুষকে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে পদে পদে হয়রানি করা এবং নথির মারপ্যাচে দেশের নাগরিকদের &lsquo;বেনাগরিক&rsquo; বা অবৈধ তকমা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে&mdash;যার বিরুদ্ধে আজ ফুঁসে উঠেছে জনতা।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এম এ বেবি বলেন, গান্ধীজি যেখানে সর্বদা সত্যের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক লড়াই পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হলেন এককথায় &lsquo;অসত্যের মহারাজা&rsquo;।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ভোটারদের মাঝে মেরুকরণের বিষ ছড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের জুজু দেখানো থেকে শুরু করে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার ভুয়া প্রতিশ্রুতি&mdash;সবকিছুই জনমোহিনী প্রতারণা ছাড়া আর কিছু ছিল না। মোদীর জমানায় কৃষকদের আয় তো বাড়েইনি, বরং ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে দেশজুড়ে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এ সময় সমাবেশে স্পষ্ট দাবি তোলা হয় যে, ভোট চুরির নেপথ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সিপিআই(এম-এল), কৃষক আন্দোলন ও ছাত্রনেত্রীদের হুংকার : 

সমাবেশে অন্যান্য বামপন্থী দলের শীর্ষ নেতারাও কেন্দ্রের ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, রামলীলার ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে ভোটাধিকার রক্ষার যে পবিত্র বার্তা আজ উচ্চারিত হলো, তাকে কোনোভাবেই কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং এই লড়াইয়ের স্পৃহা দেশের প্রতিটি কোণায়, পাড়ায় এবং গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য বিজু কৃষ্ণান দেশের কৃষকদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে প্রায় ৩২০টি জেলা তীব্র খরায় ধুঁকছে, অথচ সরকারের টনক নড়ছে না। বেকারত্বে জর্জরিত যুবসমাজ, শিক্ষার্থী এবং নারীরা আজ চরম দুর্দিনের মুখোমুখি। 

তথাকথিত &lsquo;লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি&rsquo; বা যৌক্তিক ত্রুটির আজব অজুহাত দেখিয়ে আসলে সুকৌশলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। সমাবেশে ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বর্তমান সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। রোববারের মহাসমাবেশ দিল্লির মসনদে বসা শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে ভারতীয় রাজনীতির আকাশে নতুন এক তীব্র আন্দোলনের তীব্র বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।


সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 01 Nov 2026 13:36:33 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
